আগরতলা, ৩০ এপ্রিল(হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “মন কি বাত” এর ১০০তম পর্ব উদযাপন করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক আগরতলার রাজভবনে একটি লাইভ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করেছে।
তথ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ আগরতলার মিডিয়া ইউনিটগুলি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠানের এই বিশেষ প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল সত্যদেও নারায়ণ আর্য এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, ‘মন কি বাত’-এর ১০০তম পর্বের এই বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যক্তিদের সম্বর্ধনা দিয়েছেন যাদের কাজকর্ম ইতোপূর্বে মন কি বাত- এর বিভিন্ন এপিসোডে প্রশংসিত হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী বিক্রম বাহাদুর জমাতিয়া সহ ত্রিপুরার পদ্মশ্রী পুরষ্কারপ্রাপ্তদেরও সম্মানিত করেছেন৷
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বলেন, ” প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠান শোনার জন্য আমরা প্রতি মাসের শেষ রবিবারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। নব্বইয়ের দশকে আমরা যেভাবে রামায়ণ ও মহাভারতের জন্য অপেক্ষা করতাম, ঠিক সেভাবেই আমাদের দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে ‘মন কি বাত’ শোনার জন্য অপেক্ষা করেন। ত্রিপুরার প্রায় ১৫১৫টি স্থানে মানুষ আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুনেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি মন কি বাত-এ কখনই রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত কোনও বিষয়ে কথা বলেন না, কিন্তু সাধারণ মানুষের উদ্ভাবনী ধারণা এবং তাদের সাফল্যের গল্পগুলি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের ত্রিপুরা সম্পর্কিত অনেক কিছুও তুলে ধরেছেন যেগুলি সম্পর্কে আমরাও অবগত ছিলাম না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রদেশ বা অন্যান্য রাজ্যে কী ঘটছে তা আমরা জানি না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সমস্ত উদ্ভাবনী বিষয়গুলি আমাদের সামনে তুলে ধরছেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী বলছিলেন যে তিনি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতেন৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবতে শুরু করেছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য তিনি তখন ‘মন কি বাত’ চালু করেন।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ আমি বিশ্বাস করি, ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর আমলে সম্ভব হয়নি।” তিনি বলেন, “আমি জানি না, প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতো বিশ্বের অন্য কোনও নেতা ‘মন কি বাত’-এর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন কি না। এখন গোটা বিশ্ব প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এটি সত্যিই আমাদের জন্য একটি আনন্দের মুহূর্ত।”
পরে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রাজভবনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক আয়োজিত ‘মন কি বাত’-এর ১০০তম পর্বের একটি প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেছেন।

