জঙ্গলমহলে খোশ মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী, দেখালেন অনন্যতা

জঙ্গলমহল, ১৫ নভেম্বর (হি. স.) : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভার পরে বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করলেন খোশ মেজাজে। গ্রামবাসীর সঙ্গে গল্প করা, বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন এটাই তাঁর স্বাতন্ত্র্য, তাঁর নিজস্বতা।

বীরসা মুন্ডার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বেলপাহাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলপাহাড়িতে অনুষ্ঠান শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় রওনা দেয় ঝাড়গ্রামের উদ্দেশে। ঝাড়গ্রামে ফেরার পথে রাস্তার একাধিক জায়গায় নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী৷ গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের কথা বলেন। আদিবাসী গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে শোনেন তাঁদের সমস্যার কথা।

জঙ্গলমহলে কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একেবারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর কথায় উঠে এল স্মৃতিচারণা। মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসীদের মাঝে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার জানান, মাটির বাড়িতে জন্ম তাঁর।গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মা, বাবা থাকতেন মাটির বাড়িতে৷ আমার জন্মও মাটির বাড়িতে৷ আমি জানি, মাটির বাড়ি কেমন হয়৷’

বেলপাহাড়ি থেকে ঝাড়গ্রাম আসার পথে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে নামেন কুর্চিবনি নামে একটি গ্রামে৷ সেখানে তিনি একটি আদিবাসী বাড়িতে ঢুকে পড়েন৷ সেখানে স্থানীয় আদিবাসী মানুষজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী রান্না হচ্ছে বাড়িতে?’ একইসঙ্গে তাঁরা কৃষক মাণ্ডিতে ধান বিক্রি করতে পারেন কিনা জানতে চান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁদেরকে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পের বিষয়ে জানান তিনি।

পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে খোঁজ নেন চিকিৎসা পরিষেবা কেমন পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। এই সমস্ত কথার মাঝে আচমকা মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী ওই বাড়ির সামনে বসে পড়েন৷ এক সদ্যোজাতকে কোলে তুলে নেন তিনি৷ একরত্তি শিশুকে কোলে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আদর করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সদ্যোজাত শিশুর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এমন স্নেহ দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।

গ্রামেরই একটি চা দোকানে চেনা ভঙ্গিতে ঢুকে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের হাতে তুলে নিলেন চপ। আর এগিয়ে দিলেন উৎসুক জনতার দিকে। চপ ভাজার পরেই নিজের হাতে তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে সেই চপ এগিয়ে দিলেন। তারপরে গ্রামের মানুষের হাতেও তুলে দিলেন বিকেলের চেনা খাবার। গ্রামবাসীদের সঙ্গে মিশে একাধিক অভাব-অভিযোগ শোনেন তিনি। গ্রামের শিশুদের মধ্যে বিলি করেন চকোলেট।