বিশাল ব্যবধানে জিতে ‘সনিয়া-অনুগত’ খড়্গেই কংগ্রেস সভাপতি

কলকাতা, ১৯ অক্টোবর (হি. স.) : টানটান উত্তেজনা ছিল কংগ্রেস সভাপতির ভোটকে ঘিরে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে সেই উত্তেজনা প্রকাশ পেল না। বিপুল ব্যবধানে মল্লিকার্জুন খড়্গে হারিয়ে দিলেন শশী তারুরকে। মোট ৯৩১৫ ভোটের মধ্যে শশী পেলেন মাত্র ১০৭২। আড়াই দশক পরে গান্ধী পরিবারের বাইরে কেউ সভাপতি হলেন কংগ্রেসের।

কংগ্রেসের সেন্ট্রাল ইলেকশন অথরিটি (সিইএ) তথ্য বলছে, দেশে মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ছিল ৩৬টি। বুথের সংখ্যা ৬৭। প্রতি ২০০ ভোটার পিছু একটি করে বুথ নির্ধারিত করা হয়। ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার কারণে কর্নাটকের বল্লারির সাঙ্গানাকাল্লুর শিবির থেকে ভোট দেন রাহুল। তাঁর সঙ্গে ভোট দেন যাত্রায় অংশ নেওয়া প্রায় ৫০ জন ‘ভারত যাত্রী’।

গোপন ব্যালটে হয় ভোটগ্রহণ। এই প্রথম বার ভোটদাতাদের কিউআর কোড-সহ পরিচয় পত্র দেয় সিইএ। পরিচয় পত্র ছাড়া ভোট দেওয়া যায়নি। ভোট গ্রহণের জন্য ৯৪৩ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করে কংগ্রেস।

১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেসের সভাপতি পদে গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ বসলেন। এ বার লড়াই ছিল মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং শশী তারুরের মধ্যে। দলের অন্দরের খবরে লড়াইয়ে এগিয়ে ছিলেন খড়্গেই। কারণ, তিনি জয়ী হলে দলের রাশ থাকবে গান্ধী পরিবারেরই হাতে।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়। মল্লিকার্জুন খড়্গেই যে ভোটে জিতে সভাপতি হচ্ছেন, সে বিষয়ে কংগ্রেস নেতারা নিশ্চিত ছিলেন। একই সঙ্গে, সভাপতি হয়েই মল্লিকার্জুনকে জোড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও তাঁরা নিশ্চিত। একটি চ্যালেঞ্জ, রাজস্থানে অশোক গহলৌত বনাম সচিন পাইলট বিবাদ। অন্যটি গুজরাত-হিমাচলের বিধানসভা নির্বাচন। আর বুধবার গণনা শুরু হওয়ার মাঝে কংগ্রেস সভাপতির পদপ্রার্থী শশী শিবিরের দাবি, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ‘বিরক্তিকর তথ্য’ সামনে এসেছে। তাই সেখানকার ভোট বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত এবং দিগ্বিজয় সিংহ ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁরা ভোটে মনোনয়ন পেশ করবেন। শেষ পর্যন্ত দু’জনেই সরে যান। খড়্গের নাম প্রস্তাব করেন দিগ্বিজয়। কংগ্রেসের জি-২৩ ‘বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী’রও অনেকেই খড়্গের নামই প্রস্তাব করেছেন। ২০২০ সালের অগস্টে স্থায়ী সভাপতি চেয়ে গুলাম নবি আজাদ, তারুর-সহ এই ২৩ জনই চিঠি দিয়েছিলেন সনিয়াকে। সেই থেকে দলে চাপান-উতোর। অবশেষে কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচন।