কল্যানপুর, ৬ জানুয়ারি : নেশার কবলে পড়ে যুবসমাজ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের মুখে। আর সেই নেশা সামগ্রী জোগাড় করতে গিয়ে যুবদের একটা অংশ যাদের আমরা ভবিষ্যৎ গঠনের কারিগর হিসেবে জেনে আসছি তারা প্রায় প্রতিনিয়ত চুরিসহ নানান অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এরকমই ঘটনার তাজা ছবি আজ ধরা পড়ল কল্যাণপুর থানাধীন পশ্চিম ঘিলাতলী এলাকায়।
স্থানীয় রামকুমার ঠাকুর পাড়ার বিশ্বজিৎ দাসের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়ি থেকে রাবারের শিট সহ নানান ধরনের সামগ্রী সমূহের চুরির ঘটনা ঘটে চলছিল, কিন্তু কোনভাবেই চুরের টিকির নাগাল পাচ্ছিল না। আজ সকাল আনুমানিক দশটা আর কিছু পরে পরিবারের সদস্যরা যখন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ঠিক সেই সময়ে সুকুমনি দেববর্মা এবং সমরজিৎ দেববর্মা নামে দুই উপজাতি অংশের যুবক বিশ্বজিৎ ঘরে প্রবেশ করে কিছু রাবার শিট এবং দুটি ঘরে রাখা মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি নজরে আসলে মুহূর্তেই ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। পরক্ষনেই এলাকাবাসীরা সম্মিলিতভাবে খোয়াই নদীর পাড় থেকে এই দুই চোরকে আটক করে কিছু উত্তম-মধ্যম দিয়ে কল্যাণ পুরের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অভিযোগ, তাদেরকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে কিছু নেশা সামগ্রীও পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যেই একজন কোনভাবে নেশা সামগ্রী জলে ফেলে দেয়। অর্থাৎ এই বিষয়টা পরিষ্কার নেশার আসক্তি থেকে অথবা নেশা সামগ্রী কেনার টাকা যোগাড় করার জন্যই এই অল্প বয়সে যুবরা চুরির পথ অবলম্বন করছে। এই প্রবনতা আগামী দিনে সমাজকে ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যাবে বলে তথ্য বিজ্ঞ মহলের ধারণা। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রচুর সাধারণ মানুষের জমায়েত হয়। এদের মধ্যে একাংশের বক্তব্য হচ্ছে, এভাবে দিনের পর দিন নানা প্রকারের চুরির ঘটনা গুলোর সাথে সাথে নেশার বাড়বাড়ন্ত যে হচ্ছে তা অচিরেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী দিনের জন্য ভয়ানক সমস্যা তৈরি হতে পারে। আপাতত শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত জনতার হাতে আটক দুই নবীন চুর কল্যাণপুর থানার হেফাজতে রয়েছে।



















