Youth dead at rail line : চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বাতাসের আমেজ নিতে গিয়ে অকালে নিভল রতনের জীবনদীপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ অক্টোবর৷৷ বাবার সঙ্গে আর পুজো দেখা হলো না বছর বার এর সত্যজিতের৷ হৃদয়ে অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল সে কখন শিলচর থেকে নতুন জামা নিয়ে বাড়ি আসবে বাবা৷ কিন্তু কে জানতো শিলচর যাত্রাই ছিল তার বাবার শেষ যাত্রা, কে জানতো ১২ বছরের শিশু সত্যজিৎকে আর কোন দিন তার বাবা নাম ধরে ডাকবেনা৷
আর সত্যজিৎও কোন দিন তার বাবাকে আর ডাকতে পারবেনা৷ মাত্র ক্ষনিকের দমকা হাওয়ায় অবুঝ বয়সেই ভেঙে খানখান হয়ে গেল সত্যজিতের সমস্ত আশা, আকাঙ্খা ও স্বপ্ণ৷ অভিশপ্ত সেই শুক্রবার রাতে ট্রেন এলো কিন্তু আর বাড়ি ফিরে এলো না সত্যজিতের বাবা৷


শুক্রবার রাতে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হলো তার বাবার৷ নিহতের নাম রতন দে, পিতা মৃত নির্মল দে, বাড়ি মনুবাজার থানাধীন সিন্দুক পাথর এডিসি ভিলেজর দক্ষিণ পাড়ায়৷ মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ সাব্রুম গামী ট্রেন থেকে কলাছড়া – মনুবাজার স্টেশনের মাঝামাঝি নবগ্রাম পঞ্চায়েতের নিমচান্দ পাড়ায়৷ ঘটনার বিবরনে জানাযায় নিহত যুবক শিলচর থেকে চিকিৎসা করে রাতের ট্রেনে বাড়ি আসছিল৷ ট্রেনটি কলাছড়া স্টেশনে পৌছলে নিহত যুবক ট্রেনের দড়জায় গিয়ে দাড়ায়, কিছুক্ষণ পর অন্য যাত্রীরা লক্ষ করেন যুবটি চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেছে৷ এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শুরু হয় খোজাখুজি৷


এরমধ্যে আহত য়ুবককে উদ্ধার করে নিমচান্দ পাড়ার স্থানীয় মানুষ৷ খবর পেয়ে ছুটে যায় মনুবাজার অগ্ণি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা৷এবং তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে মনুবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে৷ কিন্তু আহত যুবকের শারীরিক অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাতেই গোমতী জেলা হাসপাতালে রেফার করে৷ সেখানে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে৷ রাতে এই খবর আসার পর শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়৷ এলাকাসুত্রে জানাযায় রতন দে ছিল অনেকটা শান্ত স্বভাবের৷ কারো সঙ্গে তার কোন ঝামেলা ছিলো না৷ রাজমিস্ত্রীর কা করতো সে৷ বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছে মা, স্রী ও তার একমাত্র ছেলে সত্যজিৎ৷ রতন ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস৷ তার মৃত্যুতে আরো অসহায় হয়ে পরলো হত দরিদ্র পরিবারটি৷


এদিকে শনিবার পরন্তু বিকেলে রতনের শব দেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছলে তাকে দেখতে ঢল নামে মানুষের৷ কান্নায় ভেঙে পরে তার গোটা পরিবার৷ বৃদ্ধ মায়ের কান্নায় ভারী হয় উঠে আকাশ বাতাস৷ চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি শ্মশানে আসা পাড়া প্রতিবেশীরা৷ কিন্তু অপলক চোখে তখনো ঠাই দাড়িয়ে তার একমাত্র সন্তান সত্যজিৎ৷ দীর্ঘক্ষন ধরে চলা এই শোক আবহের মাঝে শনিবার বিকাল বেলায় রীতিনীতি মেনে শেষ হয় তার শেষকৃত্য৷
যদিও ট্রেনে থাকা প্রতক্ষদর্শীদের মতে চলন্ত ট্রেনের দড়জায় দাড়ানোর জন্যই ঘটে এই বিপত্তি৷