দেশ

ভারতের নিরাপত্তাই সবার আগে, ইলন মাস্ককে বার্তা রাজীব চন্দ্রশেখরের

তিরুবনন্তপুরম, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ধনকুবের ইলন মাস্ককে এই বার্তাই দিলেন কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর।

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি জানান, কোনও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের আগে প্রতিটি দেশকে নিজের স্বার্থ ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করতে হয়। ভারতও সেই পথেই এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, এই প্রক্রিয়ায় ধৈর্য রাখা জরুরি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অপরিহার্য।

মাস্কের বক্তব্যের জবাবে চন্দ্রশেখর দাবি করেন, উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারী তিনটি সংস্থাই মোটামুটি একই পর্যায়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। স্পেকট্রাম বরাদ্দের আগে পরিষেবাগুলির নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা আবশ্যক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারক হিসেবে ভারতের বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে চান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্র, বিশেষত টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থার পরিচালনায় তিনটি মূল নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এগুলি হল উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা এবং জবাবদিহি। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একচেটিয়া বা দ্বৈত আধিপত্যের পরিবর্তে অবাধ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিকাঠামো, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল মঞ্চগুলিকে নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য রাখার পাশাপাশি প্রত্যেক পরিষেবা প্রদানকারীকে আইনের আওতায় জবাবদিহির দায়িত্ব নিতে হবে।

উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার নিরাপত্তাগত দিক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজীব চন্দ্রশেখর। তাঁর বক্তব্য, ভারত দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ ও বিদ্রোহের মোকাবিলা করছে, যার সঙ্গে প্রতিবেশী অঞ্চলের শত্রুভাবাপন্ন শক্তির মদতের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক পহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসবাদীরা যোগাযোগের জন্য উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পছন্দ করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেটের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর যোগাযোগ এবং তথ্যের সাংকেতিকীকরণ বা এনক্রিপশন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এই সমস্যাগুলি অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। এর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপযোগী নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক পরিষেবার প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার প্রশংসাও করেন চন্দ্রশেখর। তিনি জানান, নিজে স্টারলিঙ্ক ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর মতে, এটি অসাধারণ প্রযুক্তি, যা যোগাযোগ ও চলাচলের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমানে তিনি আর সরকারের অংশ নন এবং সরকারের হয়ে কোনও বক্তব্য রাখছেন না। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ভারতে উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং পরিষেবা সম্প্রসারণ নিয়ে এই বিতর্ক সামনে এসেছে।