কাঠমান্ডু, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): নেপালের পোখরায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচজনের। শুক্রবার ভোরে একটি স্কুলবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে নীচে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে চালক-সহ মোট ১৯ জন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। মৃতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নেপালি প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাস্কি জেলার পোখরা মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওখলেকো ভির এলাকায় সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কালিকা ইংলিশ বোর্ডিং স্কুলের বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে নীচে পড়ে যায়।
কাস্কি জেলা পুলিশ দপ্তরের প্রধান পুলিশ সুপার নবীন কার্কি সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বাসটিতে ১৭ জন পড়ুয়া, অন্য এক যাত্রী এবং চালক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
কাস্কির প্রধান জেলা আধিকারিক কুমান সিং গুরুং জানান, বাসটিতে মূলত দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা ছিলেন। তাঁরা অতিরিক্ত শিক্ষার ক্লাসে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তবে কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। দেশে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নেপালে মোট ৭,৬৬৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১,৯০০ জনের। এর মধ্যে ২৭৮টি দুর্ঘটনাকে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক দশক আগে নেপাল ট্রাফিক পুলিশের নথিতে ৪,৯৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখ ছিল।
বিশ্বব্যাঙ্কের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, নেপালে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ২০০৭ সালের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের ১.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় দরিদ্র ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষেরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন বলেও সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও মোটরসাইকেল চালকদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহারকারীরা প্রাণ হারান।
ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নেপাল সরকার প্রতিনিধি সভায় সড়ক নিরাপত্তা বিল পেশ করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নজরদারি জোরদার এবং দুর্ঘটনাজনিত প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতি কমানো এই বিলের মূল লক্ষ্য।
বিলে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন, প্রাদেশিক ও স্থানীয় স্তরে সমন্বয় কমিটি তৈরি, নিরাপদ সড়ক পরিকাঠামো, যানবাহন ও পরিবহণ পরিষেবার নিরাপত্তা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং পথ ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা, বিমা এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থার উন্নতির কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোখরার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নেপালে সড়ক নিরাপত্তা এবং পড়ুয়াদের যাতায়াতের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।