দেশ

গুজরাটে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৭ নিরাপত্তাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু সিআরপিএফ জওয়ানের

গান্ধীনগর, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): গুজরাটে জাতীয় ঐক্য দিবসের কুচকাওয়াজের প্রস্তুতিতে অংশ নিতে আসা নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১০ দিনে মোট ৮৭ জন নিরাপত্তাকর্মী গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। বর্তমানে ৩৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পনশেরিয়া।

চিকিৎসাধীন এক কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন প্রফুল পনশেরিয়া। হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট চিকিৎসক মীতা পারিখ এবং চিকিৎসক দলের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি চিকিৎসা পরিষেবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৭ জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কেউই সংকটজনক অবস্থায় নেই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), সিআরপিএফ এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর কর্মীরা এই তালিকায় রয়েছেন।

আগামী ৩১ অক্টোবর একতা নগরে স্ট্যাচু অব ইউনিটির সামনে জাতীয় ঐক্য দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে অংশ নিতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা গুজরাটে এসেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক জওয়ানের শারীরিক অবস্থা প্রথমে স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু আচমকা তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসকেরা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি)-সহ বিভিন্ন হৃদ্‌যন্ত্রের পরীক্ষা করেন এবং তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করেন। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জ্বর বা শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জওয়ানরা কঠোর শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রফুল পনশেরিয়া বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। মৃত জওয়ানের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসাধীন জওয়ানদের পর্যাপ্ত পানীয় জল, পুষ্টিকর খাবার, তাজা ফল, ফলের রস এবং স্যালাড সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, যেসব রোগীর রক্ত বা প্লেটলেটের প্রয়োজন হতে পারে, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও চিকিৎসকদের বলা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ আবাসিক চিকিৎসকদের মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জায়গাগুলিতে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দু’বার করে ধোঁয়া ছড়িয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। পাশাপাশি কীটনাশক ছড়ানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ দল দিনরাত নজরদারি চালাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, গান্ধীনগরের ২৮ ও ২৯ নম্বর সেক্টরে নবনির্মিত সরকারি আবাসনে অস্থায়ীভাবে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ওই আবাসন চত্বরে জল জমে থাকার বিষয়টি আগেই স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে এসেছিল। জমা জলে মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান, মশার লার্ভা ধ্বংস, জ্বরের উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা আধিকারিক চিকিৎসক বিপুলা পাণ্ড্য আইএএনএস-কে জানিয়েছিলেন, সেই সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৪৩ জন নিরাপত্তাকর্মী হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ভর্তি ছিলেন। তিনি আরও জানান, ২৬ বছর বয়সি সিআরপিএফ জওয়ান অমল বর্মন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন নিরাপত্তাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের দ্রুত সুস্থ করে তোলাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।