আগরতলা, ৩১ আগস্ট: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করছে ত্রিপুরা সরকার। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সচেতনতামূলক প্রচার এবং উন্নত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে রাজ্যে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিধানসভায় এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।
বিজেপি বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংয়ের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পিড রাডার গান, ইন্টারসেপ্টর গাড়ি, অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা এবং রেড-লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা।
এছাড়া অনলাইনে জরিমানা আদায়ের জন্য ই-চালান মেশিন ও কিউআর কোডভিত্তিক ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। বিভিন্ন ট্রাফিক চেকপয়েন্টে ব্রেথ অ্যানালাইজার, স্পিড রাডার গান, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, ওয়্যারলেস সেট, রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট বা টেপ, লাইট বার, ব্যাটনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ডিসপ্লে বোর্ডসহ স্পিড চেকিং ডিভাইস ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরা হাইকোর্টের সামনে, আশ্রম চৌমুহনী থেকে চন্দ্রপুর আইএসবিটি পর্যন্ত এলাকা এবং ওএনজিসি ব্যাংক চৌমুহনী থেকে মূল ওএনজিসি প্রবেশপথ পর্যন্ত অংশ।
ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিসপ্লে স্ক্রিন, ফ্লেক্স ব্যানার, পোস্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গত তিন বছরে সিসিটিভি ও ই-চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত ঘটনাগুলিকে সরাসরি ফৌজদারি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় না। বরং লঙ্ঘনের ধরন অনুযায়ী প্রসিকিউশন রিপোর্ট তৈরি করা হয়, জরিমানা ধার্য করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
ট্রাফিক আইন পুলিশকর্মীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে টিপরা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পুলিশকর্মীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পুলিশ বা সরকারি গাড়ির ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কাম্য নয় এবং আইন ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।
ট্রাফিক চেকপয়েন্ট নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশকে রাস্তায় সাধারণ মানুষের জন্য অবাধে অসুবিধা তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো চেকপয়েন্ট বা অভিযান পরিচালিত হলে কিংবা এর ফলে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে শুধুমাত্র চালান কাটার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার -এর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ট্রাফিক পরিস্থিতি ও আইন লঙ্ঘনের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ৫১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ২২টি স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, ৮১টি রেড-লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা, ৪৩টি ক্যামেরা, ৭৭টি ভেরিয়েবল মেসেজ ডিসপ্লে বোর্ড এবং ২৩৭টি জিপিএস-ভিত্তিক ট্রাফিক ইউনিট রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এএনপিএ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশের প্রতিটি গাড়িকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা না করেও নম্বর প্লেট শনাক্ত করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী গাড়ি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এর ফলে রাস্তার ওপর অপ্রয়োজনীয় যানজট ও হয়রানি কমার পাশাপাশি আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগরতলার বাইরের শহর ও জনবহুল এলাকাতেও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারের লক্ষ্য শুধু বেশি সংখ্যক চালান কাটা নয়, বরং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


















