আগরতলা, ২৩ আগস্ট: টানা বৃষ্টির জেরে জলস্তর বাড়তে থাকায় আগরতলার চন্দ্রপুর সংলগ্ন বলদাখাল ও শ্রীলঙ্কা বস্তি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে মহকুমা ও জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার এলাকায় যান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী এবং জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর।
জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর জানান, গত রাতে প্রবল বৃষ্টির কারণে আচমকাই বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকে পড়ে। নদীর জলস্তরও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যায় পড়েন বহু মানুষ। পরিস্থিতি বুঝে অনেকেই বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন। উদ্ধার হওয়া মানুষের মধ্যে ছোট শিশু, মাত্র তিন দিনের এক নবজাতক, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং একজন স্ট্রোকের রোগীও রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, জিরানিয়া মহকুমায় মোট চারটি আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। মান্দাই ও পুরাতন আগরতলা এলাকায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চন্দ্রপুর ও রানীরবাজারের আশ্রয়শিবিরে এখনও কেউ স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন না। তবে প্রয়োজনে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স, স্কাউটস, টিএসআর-এর বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন এবং এনডিআরএফ-এর দল কাজ করছে। বর্তমানে পাঁচটি বোট দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। আরও একটি বোট তৈরি রাখা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেটিও কাজে লাগানো হবে।
অনিমেষ ধর জানান, বর্তমানে জলস্তর প্রায় ১০.৮৬ মিটার, যা বিপদসীমার কাছাকাছি। ফলে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলেও জলস্তর এখনও তেমন কমেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত জল বিপদসীমার কাছাকাছি থাকবে, ততক্ষণ উদ্ধারকারী দল এলাকায় থাকবে। জলস্তর কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উদ্ধার অভিযান ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে।
আশ্রয়শিবিরগুলিতে শিশুদের জন্য দুধসহ প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জল নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে বলে জানান মহকুমা শাসক।
এদিকে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, চন্দ্রপুর-বলদাখাল ও আশপাশের বেশ কিছু এলাকা প্রতিবছরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। সকাল থেকেই মহকুমা শাসকসহ অন্যান্য আধিকারিক ও উদ্ধারকারী দল বোট নিয়ে কাজ করছে।
বিধায়ক জানান, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি এবং ছোট শিশুদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে অনেকেই আশ্রয়শিবিরে যেতে চাইছেন না। তাঁদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বোঝানো হচ্ছে। আশ্রয়শিবিরে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খয়েরপুর এলাকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। পাশাপাশি মরিয়মনগর, কালিনগর ও বৃদ্ধিনগর এলাকাতেও জল ঢুকেছে। দেবতাবাড়ি এলাকার উপরেও বন্যার জল প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জল দ্রুত নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগবে না। তবে রাতের দিকে জলস্তর যাতে আর না বাড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ছোট শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অসুস্থ ব্যক্তি এবং গবাদিপশুসহ যাতে কেউ বিপদের মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের কর্মীরা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।
























