নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): অস্ট্রেলিয়ায় ‘এক্সারসাইজ পিচ ব্ল্যাক ২০২৬’ এবং মালয়েশিয়ায় ‘এক্সারসাইজ উদারা শক্তি ২০২৬’-এ সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষ করল ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। দুই দেশে ধারাবাহিক এই মোতায়েনের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের বায়ুসেনার অপারেশনাল সক্ষমতা, কৌশলগত সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এক্স-এ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান মহড়ায় আইএএফের অংশগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই দ্বৈত-দেশীয় মোতায়েন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই মহড়ার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির বায়ুসেনার সঙ্গে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং অপারেশনাল পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে আইএএফ। এর ফলে আন্তঃকার্যক্ষমতা, কৌশলগত সমন্বয় এবং যৌথ অভিযানের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের আয়োজনে ‘পিচ ব্ল্যাক ২০২৬’-এ আইএএফ তার অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। ২০টিরও বেশি দেশের বায়ুসেনার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জটিল ‘লার্জ ফোর্স এমপ্লয়মেন্ট’ মিশন পরিচালনা করা হয়।
এই মহড়ায় বিভিন্ন দেশের বায়ুসেনার মধ্যে সমন্বিত কৌশলগত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপারেশনাল অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ার মহড়া শেষ করার পর আইএএফের দল সরাসরি মালয়েশিয়ার সুবাংয়ে পৌঁছে রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্সের সঙ্গে ‘উদারা শক্তি ২০২৬’-এ অংশ নেয়। দ্বিপাক্ষিক এই মহড়ায় আইএএফের বিমানকর্মীরা মালয়েশিয়ার সু-৩০এমকেএম এবং এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানের সঙ্গে উচ্চ-তীব্রতার কমব্যাট সর্টি ও যৌথ কৌশলগত মহড়া পরিচালনা করেন।
মহড়াটির মূল লক্ষ্য ছিল আকাশযুদ্ধের কৌশল আরও উন্নত করা, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে মতবিনিময় এবং যৌথ অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই মহড়ার সহযোগিতা শুধু আকাশপথে উড়ান পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি, মিশন পরিকল্পনা এবং অংশগ্রহণকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পেশাগত ও সাংস্কৃতিক মতবিনিময়ও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
এই ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ বিভিন্ন দেশের বায়ুসেনার সদস্যদের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করেছে। পাশাপাশি, ভিন্ন ভিন্ন অপারেশনাল পদ্ধতি ও কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন বিমানকর্মী এবং সহায়ক দলের সদস্যরা।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ সম্প্রসারিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইএএফের এই দুই মহড়ায় অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহুজাতিক বিমান মহড়ার মাধ্যমে অপারেশনাল প্রস্তুতি যাচাই, যৌথ কার্যপ্রণালী তৈরি এবং জটিল সামরিক অভিযানে সমন্বয় আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের এই ধারাবাহিক মোতায়েন ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ভারতের অবদানের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ুসেনার সঙ্গে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।



















