কলকাতা, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ছাড়ার একদিন পরেই পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে প্রাক্তন আইএসএফ নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল। শনিবার রাতে উড়িয়াপাড়া এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও বোমা ছোড়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পোলেরহাট থানার অন্তর্গত উড়িয়াপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও দু’টি বোমা ছোড়া হয়। বোমা দু’টি গাড়িতে না লেগে রাস্তায় বিস্ফোরিত হয়। তবে ইটের আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। অল্পের জন্য তিনি আঘাত থেকে রক্ষা পান।
গাড়িতে আরাবুল ছাড়াও আরও কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চালক দ্রুত গাড়ির গতি বাড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান। ফলে বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আরাবুল বা তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কেউ শারীরিকভাবে আহত হননি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
আরাবুল ইসলাম এই হামলার জন্য আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং তাঁর দলকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আইএসএফ-এর কয়েকজন কর্মী তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। দল ছাড়ার পর থেকেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। আইএসএফ-এর পক্ষ থেকেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে পোলেরহাট থানার পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত উড়িয়াপাড়ায় পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। কারা হামলা চালিয়েছে এবং কী কারণে এই হামলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।
রবিবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে আরাবুল বলেন, সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশে বেরোনোর পর রাতে উড়িয়াপাড়ার কবরস্থানের কাছে তাঁর গাড়িতে হামলা হয়। তাঁর দাবি, গাড়িটি যদি কিছুটা ধীর গতিতে চলত, তাহলে চালক এবং তিনিও আহত হতে পারতেন। আইএসএফ ছাড়ার কারণেই এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর একদিন আগে আইএসএফ ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন আরাবুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘একনায়কতান্ত্রিক’ আচরণের অভিযোগ তোলেন। দলের পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ভাঙড়ে আইএসএফ-এর কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন আরাবুল।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। ভাঙড়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং এলাকায় তাঁর যথেষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। তিনি বিধায়কও নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়ে তাঁর। এরপর নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন আইএসএফ-এ যোগ দেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ তাঁকে ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পর থেকেই আইএসএফ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। দলের একাধিক কর্মসূচিতেও আগের মতো সক্রিয় দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। শেষ পর্যন্ত দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আইএসএফ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন আরাবুল।



















