News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ৯০০ আধিকারিক, ১৫৪টি শাখা, ১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা: গ্রামীণ ব্যাঙ্কের অগ্রগতির প্রশংসায় সুশান্ত
Image

৯০০ আধিকারিক, ১৫৪টি শাখা, ১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা: গ্রামীণ ব্যাঙ্কের অগ্রগতির প্রশংসায় সুশান্ত

আগরতলা, ২২ আগস্ট: ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ধারাবাহিক সাফল্য ও সম্প্রসারণের ভূয়সী প্রশংসা করলেন পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনে ব্যাঙ্কের ব্যবসা ও পরিষেবা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার আগরতলায় ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মন্ত্রী। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে রবিবার পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে ব্যাঙ্কের আধিকারিক, বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সহজে আর্থিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সেই লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মোট ব্যবসার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ১৮৪ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। ব্যাঙ্কের আর্থিক কর্মদক্ষতা ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ব্যাঙ্কের এই অগ্রগতিকে একটি বিমান ধীরে ধীরে আকাশে উড্ডয়নের সঙ্গে তুলনা করেন মন্ত্রী।

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখা সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, মাত্র চারটি শাখা—বিশ্রামগঞ্জ, বিশালগড়, জোলাইবাড়ি এবং কাঞ্চনপুর—দিয়ে ব্যাঙ্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে গোটা রাজ্যে ব্যাঙ্কের ১৫৪টি শাখা এবং প্রায় ৯০০ জন আধিকারিক রয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের মানুষের মধ্যে ব্যাঙ্কটির গ্রহণযোগ্যতা ও বিস্তারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রামাঞ্চলে ব্যাঙ্কটির ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি, ক্ষুদ্রঋণ এবং এমএসএমই ক্ষেত্রে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দিয়ে আসছে। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। তিনি ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে রাজ্যের মাটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও এই ব্যাঙ্কে নিজেদের আমানত রাখে বলে জানান তিনি।

বর্তমান সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, একসময় যেখানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মূলত প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমানে এটিএম এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি অনলাইন আর্থিক প্রতারণার ঘটনা বাড়ায় গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। গ্রাহকদের সুরক্ষায় ব্যাঙ্কগুলিকে নিয়মিতভাবে নিজেদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
ত্রিপুরার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং এমএসএমই ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দেশের কোনও অংশ বা কোনও ক্ষেত্রকে পিছনে রেখে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির পুঁজিবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। আইপিও-র মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির শেয়ার বাজারে আসার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই এগোচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান। ভবিষ্যতে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কও যদি আইপিও-র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে, তাহলে রাজ্যের মানুষ সেই শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ দেখাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সুশান্ত চৌধুরী বলেন, তুলনামূলকভাবে ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই দেশের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। আগামী দিনে ব্যাঙ্কের মোট ব্যবসার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে মন্ত্রী সংগঠনের সদস্যদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কোনও প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের মূল ভিত্তি হল তার কর্মীদের নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা। গ্রাহকবান্ধব পরিষেবা আরও উন্নত করার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্কিং অফিসার্স ফোরাম/ফেডারেশনের সভাপতি সাগর যোশী, অল ইন্ডিয়া রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৃজন কুমার পাল, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশনের সম্পাদকসহ অন্যান্যরা।

Releated Posts

‘আগামী মাস থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকব না’, তিপ্রাসা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি প্রদ্যোতের

আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে তিপ্রা মথার সাফল্যের পর সামাজিক মাধ্যমে এসে একদিকে তিপ্রাসা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের…

ByByReshmi Debnath Oct 6, 2026

ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এনডিএ-র সাফল্য, গণদেবতা ও কর্মী-সমর্থকদের অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এনডিএ জোটের উল্লেখযোগ্য সাফল্যে রাজ্যের জনগণ এবং…

ByByReshmi Debnath Oct 6, 2026

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর, ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৬ অক্টোবর: সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৩…

ByByReshmi Debnath Oct 6, 2026

টেপানিয়ায় ৬০ আসনের সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনে অনুমোদন

আগরতলা, ৬ অক্টোবর: গোমতী জেলার টেপানিয়ায় ত্রিপুরা সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ন্যাশনাল কমিশন…

ByByTaniya Chakraborty Oct 6, 2026
Scroll to Top