নয়াদিল্লি, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): অহংকারের বশে শিষ্টাচার ভুলে না যেতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার কাউকে ভয় পায়নি এবং কারও কাছে মাথা নতও করেনি বলে শনিবার দাবি করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ গিরিরাজ সিং বলেন, “রাহুল গান্ধীজি, অহংকারের বশে শিষ্টাচার ভুলে যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির সরকার কাউকে ভয় পায়নি, কারও কাছে মাথা নতও করেনি। সরকার তার নীতি ও কর্তব্যের পথে অবিচল থেকে জনসেবার কাজ করে চলেছে।”
নাগরিকত্ব এবং জাতীয় কর্তব্যের প্রসঙ্গ তুলেও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাঁর মা বিয়ের ১৫ বছর পরেও ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এবং যিনি নিজেই দ্বৈত নাগরিকত্বের বিতর্কে জড়িয়ে রয়েছেন, তাঁর জাতীয় কর্তব্য ও সংবিধান নিয়ে আমাদের জ্ঞান দেওয়া উচিত নয়। গোটা দেশ আপনাদের আসল রূপ দেখছে।”
একটি ভিডিও বার্তাতেও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন গিরিরাজ সিং। সেখানে তিনি বলেন, অহংকারের বশে কংগ্রেস নেতার এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তিনি গীতা পড়েননি। সরকার ভীত নয়; সরকার তার নীতি ও দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “তবে আমি রাহুলকে বলব, দয়া করে অহংকারের বশে এমন কথা বলবেন না। গোটা বিশ্ব দেখছে আপনি কী।”
সংসদ অভিমুখে ২০ জুলাইয়ের মিছিল চলাকালীন পেলেট বন্দুকের আঘাতে আহত হওয়া ১৯ বছর বয়সি এক ছাত্রের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই গিরিরাজ সিংয়ের এই মন্তব্য সামনে এল।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আহত ছাত্র সাহিল লোচবকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লির একটি থানার বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন। ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে না যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “এফআইআর নথিভুক্ত না করলে আমি ৩০ দিন বা ছয় মাসও থানার বাইরে ধর্নায় বসে থাকব।”
পরে আহত ছাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
এফআইআর দায়ের হওয়াকে ন্যায়বিচারের পথে প্রথম পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী শুক্রবার প্রশ্ন তোলেন, পদক্ষেপ নিতে এত দেরি হল কেন। তিনি বলেন, পেলেটের আঘাতের এক মাস পর এফআইআর হয়েছে এবং ওই ছাত্রের শরীরে এখনও পেলেট রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি চোখে এবং হৃদপিণ্ডের কাছাকাছি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই তরুণের সঙ্গে স্পষ্টতই অন্যায় হয়েছে।
–আইএএনএস



















