রামগড়, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার বারকাকানা থানার অন্তর্গত হেহল এলাকায় মা ছিন্নমস্তিকা সিমেন্ট অ্যান্ড ইস্পাত কারখানার বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরণে তিন ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত কর্মী তারুণ রাজওয়ার হজারিবাগের বাসিন্দা। তাঁকে রাঁচি রোডের দ্য হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
মৃতদের পরিচয় হল—কারখানার শিফট ইনচার্জ ৫০ বছর বয়সি সঞ্জীব কুমার কেসরি, যিনি রাঁচির বাসিন্দা; বোকারোর জাগেশ্বর বিহারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি বিনীত মাহতো এবং গড়বা জেলার নগর উন্টাড়ির বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি অভিষেক পাণ্ডে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ চলাকালীন আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কারখানা চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বারকাকানা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক উমাশঙ্কর বর্মা জানান, দুর্ঘটনায় তিন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিস্টেমে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পর কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার পর টারবাইন অতিরিক্ত গতিতে ঘুরতে শুরু করায় বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বিস্তারিত তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর কারখানার কর্মী ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল। কর্মীদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছিল এবং সেখানে থাকা এয়ার কন্ডিশনারও ঠিকমতো কাজ করছিল না। ফলে কন্ট্রোল রুমে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
কর্মীদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানানো হয়েছিল। নিয়মিত টেম্পারেচার গান দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হতো এবং সেই তথ্যও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সময়মতো কুলিং ব্যবস্থা মেরামত করা হয়নি বলে অভিযোগ।
শ্রমিকদের দাবি, কন্ট্রোল রুমের শীতলীকরণ ব্যবস্থা দ্রুত মেরামত করা হলে এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে কার্যকর করা হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। বিস্ফোরণের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মৃত ইঞ্জিনিয়ারদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহত কর্মীর যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
–আইএএনএস


















