জয়পুর, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): পেট্রলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে নিশানা করলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে এবং এর বহুমুখী প্রভাবের বোঝা সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।
গেহলট বলেন, “পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই পেট্রলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ও ভুল সিদ্ধান্তের আরেকটি উদাহরণ। এই সিদ্ধান্তের পরিণতি দেশের মানুষকে বিভিন্ন দিক থেকে ভোগ করতে হচ্ছে।”
তাঁর দাবি, আখের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চিনি উৎপাদনের পরিবর্তে ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে চিনির সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। গেহলটের দাবি, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে চিনির দাম কেজিপ্রতি ১৪ থেকে ১৭ টাকা বেড়েছে।
তাঁর বক্তব্য, সমস্যা শুধু মূল্যবৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইথানল মেশানো জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগও সামনে আসছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে সাধারণ গাড়ির মালিকদের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে বলে গেহলটের অভিযোগ।
তিনি বলেন, “এটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুট করার সামিল।”
গেহলট আরও অভিযোগ করেন, এই ব্যবস্থায় অল্প কয়েকজন শিল্পপতি এবং সরকার লাভবান হলেও সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বায়ু ও জলদূষণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর মতে, এত বড় একটি নীতি কার্যকর করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যাপ্ত পরিকল্পনা, মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। গেহলট বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এখন দেশের মানুষ তার মূল্য দিচ্ছেন।”
মোদি সরকার মানুষের আস্থা হারিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রাক্তন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই কারণেই সরকার নিজের নীতির সুবিধাগুলি নিয়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না।
ইথানল মিশ্রণ নীতির ফলে সাধারণ ভোক্তা, চিনির সরবরাহ, গাড়ির মালিক এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনা করে পুরো নীতিটির পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়েছেন গেহলট।
—আইএএনএস



















