কলকাতা, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের এক স্থানীয় নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার জেলার বহরমপুর শহরের ওই নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৮৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষ বহরমপুর শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। ২০১৭ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মারাউডার’ বা দুষ্কৃতী হিসেবে অভিযোগও দায়ের হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাপাই ঘোষ পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি মুর্শিদাবাদের একটি জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। সেই জেরায় তাঁর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি মজুত থাকার কথা তিনি স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এরপর তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি ৯ মিমি পিস্তল, তিনটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল এবং দুটি সিঙ্গল-শট পাইপগান। এছাড়া পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১৮৬ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, একই দিনে মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানার পুলিশও আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছ’টি ম্যাগাজিন এবং ৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম জব্বার মণ্ডল ও আলমগীর শেখ।
কেন তারা এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি বহন করছিল এবং কোথায় সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা জানতে পুলিশ দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে পুলিশি অভিযান জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
—আইএএনএস



















