নয়াদিল্লি, ২১ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে দুই পক্ষের বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে এবং এটি ভারত-ইইউ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনে।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তাঁর মতে, এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।
ডায়ানা মিকেভিচিয়েনে জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করবে লিথুয়ানিয়া। সেই সময়ের মধ্যেই ভারত-ইইউ কার্যকর করার জন্য লিথুয়ানিয়া জোরালোভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, চুক্তিটি লিথুয়ানিয়ার ইইউ প্রেসিডেন্সির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে।
রাষ্ট্রদূতের মতে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই পক্ষের পণ্য ও পরিষেবার বাজারে প্রবেশাধিকার উদারীকরণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত-ইইউ এফটিএ-কে ইতিমধ্যেই ‘মাদার অব অল ডিলস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত। তাঁর মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য একটি নকশা বা ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, চুক্তিটি ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ের জন্যই একটি বড় সাফল্য। কারণ দুই পক্ষ একদিকে পণ্য ও পরিষেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকেও সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভারত ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মিকেভিচিয়েনে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং পণ্য ও পরিষেবার আদান-প্রদানও স্থায়ীভাবে এগিয়ে চলেছে।
তাঁর মতে, ভারত-লিথুয়ানিয়া বাণিজ্য এখন আর শুধুমাত্র প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ডিজিটাল ডিভাইসের বাণিজ্যও ক্রমশ বাড়ছে।
ভারত ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, লিথুয়ানিয়ায় এআই ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একাধিক সংস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের দক্ষ পেশাদাররাও লিথুয়ানিয়ায় কাজ করছেন। ফলে দুই দেশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবসম্পদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এআই-এর দ্রুত প্রসারের ফলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অভিন্ন মূল্যবোধের উপর যে প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মিকেভিচিয়েনে।
তিনি জানান, এই বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনকে বিশ্বব্যাপী কার্যকর একটি উপকরণে পরিণত করার উদ্যোগে ভারতকে যুক্ত হতে দেখতে চায় লিথুয়ানিয়া। বিশেষ করে এআই-এর প্রভাব যাতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অভিন্ন মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সামগ্রিকভাবে, ভারত-ইইউ এফটিএ এবং ভারত-লিথুয়ানিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারে আগামী বছরগুলিতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত।



















