আগরতলা, ২১ আগস্ট: সম্প্রতি বৃদ্ধি পাওয়া বিদ্যুৎ মাশুলের সম্পূর্ণ বোঝা রাজ্য সরকার বহন করবে। বর্ধিত ফিক্সড চার্জের উপর ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহক বাড়তি মাশুলের চাপ থেকে রেহাই পাবেন। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই ঘোষণা করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
মন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য নতুন বিদ্যুৎ মাশুলের আদেশ জারি করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যগুলির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনগুলিকে তিন বছরের মধ্যে রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির রাজস্ব ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা করতে হয়। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই মাশুল কাঠামোয় পরিবর্তন আসে এবং ফিক্সড চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার সমস্ত শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বর্ধিত ফিক্সড চার্জের উপর ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় থাকবেন গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক, কৃষি ও শিল্প সংযোগের গ্রাহকরা। তবে রেলওয়ে ট্র্যাকশন এই সুবিধার বাইরে থাকবে। প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রেলওয়ে এবং জাতীয় সম্প্রচার সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে বর্ধিত মাশুলের ১৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে।
রতন লাল নাথ জানান, এই ভর্তুকি ২০২৬ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে নতুন হারে যেসব গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন, তাঁদের অতিরিক্ত প্রদান করা অর্থ পরবর্তী তিনটি বিলিং চক্রে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বিলে সমন্বয় করে দেওয়া হবে। ফলে গ্রাহকদের বাড়তি অর্থের বোঝা বহন করতে হবে না।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জরুরি বৈঠক করেন এবং বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লির কর্মসূচিও সংক্ষিপ্ত করে রাজ্যে ফিরে আসেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।
রতন লাল নাথ বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০১০-১১ থেকে ২০১৭-১৮ সময়কালে বিদ্যুৎ মাশুল ১১৬.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের গত আট বছরে মাশুল বৃদ্ধির হার ৪০.৪২ শতাংশ। ২০২০-২১ সালেও গ্রাহকদের রিবেট দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২২-২৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম প্রায় ১৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও রাজ্য সরকার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করেনি। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক কমিশনের নির্দেশনার কারণে মাশুল বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সরকারের এই ভর্তুকি প্রদানে রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রায় ৭৭.৫৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাশাপাশি আরও ১১৭.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের সংস্থান করা হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সরকার বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির ১০০ শতাংশ বোঝা নিজেরা বহন করছে।
মন্ত্রী বলেন, রিকশাচালক থেকে কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ পরিবার, প্রত্যেকেই সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলে এই সিদ্ধান্তের সুফল দেখতে পাবেন। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা বিবেচনা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সরকার বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ না দিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
























