লখনউ, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): জেলে বন্দি প্রাক্তন রামপুরের সাংসদ আজম খানের ক্রমবর্ধমান আইনি জটিলতার জন্য সমাজবাদী পার্টি (সপা) প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তাঁর কাকা শিবপাল সিং যাদবকে দায়ী করে তীব্র আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর।
সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) সভাপতি রাজভরের অভিযোগ, সপা নেতারা রাতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে আজম খানের বেআইনি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান ও তদন্ত শুরু হয়।
বুধবার আজম খানের বেআইনি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় রামপুর, সাহারানপুর ও দিল্লিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর রাজভরের এই মন্তব্য সামনে আসে। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদ আলি জওহর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার ট্রাস্ট-সহ মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।
আইএএনএস-কে রাজভর বলেন, অখিলেশ যাদব এবং শিবপাল সিং যাদবই আজম খানের সমস্যার জন্য দায়ী। তাঁর দাবি, তাঁরা আজম খানকে বাঁচতে দিতে চান না। দিনে বিজেপির সমালোচনা করলেও রাতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দেখা করেন এবং আজম খান কী করেছেন, সে সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তদন্তের জন্য চাপ দেন। এরপরই সকালে অভিযান শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজভর আরও অভিযোগ করেন, প্রাক্তন রামপুর সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি বাড়াতে সপা নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে গিয়ে আজম খান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছে।
অন্যদিকে, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকারের সমালোচনা করেছে সপা। দলের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের আর কিছু দেওয়ার নেই বলেই পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ‘হয়রানি’ করার রাজনীতি করা হচ্ছে।
আইএএনএস-কে সপা মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে। তাদের নিজেদের দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। যখনই তারা ক্ষমতায় আসে, তখনই পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সপা মুখপাত্রের অভিযোগ, দেশের জন্য বিজেপির দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই বলেই পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে।
অধিকারিকদের মতে, ইডির তল্লাশির মূল লক্ষ্য অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস খুঁজে বের করা। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও ব্যবহার সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রমাণ, নথি এবং আর্থিক রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
–আইএএনএস



















