মাসকাট, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসে মাসকাট, পন্তা দেলগাদা এবং জিবুতিসহ বিদেশের বিভিন্ন বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তেরঙ্গা উড়িয়ে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। রবিবার ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, বিদেশের বন্দরে অবস্থানরত ভারতীয় নৌজাহাজগুলিতে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে উদযাপন করা হয়।
নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছে, তেরঙ্গা উড়িয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্রপথে দেশের আবেগ ও চেতনাকে বহন করেছে। জিবুতি, মাসকাট এবং পন্তা দেলগাদাসহ বিভিন্ন বিদেশি বন্দরে ভারতীয় নৌজাহাজে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। জাতীয় পতাকা ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি, গর্ব এবং বন্ধুত্বের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে তুলে ধরেছে।
বিশাখাপত্তনম-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার আইএনএস ইম্ফল বর্তমানে ওমানের মাসকাট বন্দরে রয়েছে। সেখানে পোর্ট কল চলাকালীন জাহাজটিতে গর্বের সঙ্গে তেরঙ্গা উত্তোলন করা হয়। মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতের ৮০ বছরের স্বাধীনতা উদযাপনের সময় আইএনএস ইম্ফলে তেরঙ্গা উড়িয়ে ভারত-ওমানের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং সামুদ্রিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও একবার তুলে ধরা হয়েছে।
ওমানে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রশান্ত পিসে আইএনএস ইম্ফল পরিদর্শন করেন এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাহাজের নাবিক ও আধিকারিকদের অভিনন্দন জানান। জাহাজের কর্মীরাও দূতাবাসে আয়োজিত পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর পালতোলা প্রশিক্ষণ জাহাজ আইএনএস সুদর্শিনী পর্তুগালের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জের পন্তা দেলগাদা বন্দরে স্বাধীনতা দিবস পালন করে। পর্তুগালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গর্ব ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে সেখানে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতের ঐতিহ্য, জাতীয় চেতনা এবং সামুদ্রিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
পন্তা দেলগাদা বন্দরে অবস্থানকালে আইএনএস সুদর্শিনীকে তেরঙ্গার আলোয় সাজানো হয়। এর মাধ্যমে ভারত ও পর্তুগালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সদিচ্ছা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতার সম্পর্কের বার্তা দেওয়া হয়।
ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, আমেরিকার বোস্টন থেকে ১৯ দিনের ট্রান্স-আটলান্টিক যাত্রা শেষে ১৩ আগস্ট আইএনএস সুদর্শিনী আজোরেসের পন্তা দেলগাদা বন্দরে পৌঁছয়। ‘লোকায়ন ২৬’ মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ভারত-পর্তুগাল সামুদ্রিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাহাজটির কমান্ডিং অফিসার আজোরেস মেরিটাইম জোনের কমান্ডার কোমোদোর লুইস নিকলসন লাভরাদরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাহাজটি বন্দরে অবস্থানকালে পর্তুগিজ নৌবাহিনীর সঙ্গে পেশাদার পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাদার যোগাযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
–আইএএনএস
























