কলকাতা, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার নেপথ্যে কোনও ধরনের ‘ব্ল্যাকমেলিংয়ের চাপ’ থাকতে পারে বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত করা হবে।
‘ব্ল্যাকমেলিংয়ের চাপ’-এর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার বিষয়টিও পরোক্ষভাবে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের মধ্যেই অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন এবং তাঁর গঠিত একটি কমিটি থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে থাকতে পারেন বা কেউ তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে থাকতে পারেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে। তাঁর সুইসাইড নোট এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হবে।”
কেউ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুমকি দিয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত মর্মাহত। ময়নাতদন্ত যাতে সঠিকভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছি।”
পেশায় শিক্ষক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত জীবনে সৎ ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায় না বলে দাবি করেন তিনি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম পদক্ষেপের জন্য রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক চাপ এবং বিজেপির কথিত ‘ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রচার’ দায়ী হতে পারে বলে তৃণমূলের একাংশের অভিযোগও খারিজ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি এবং বিজেপির কেউ তাঁর নাম করে হুমকিও দেয়নি।
তাই তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ তাঁকে হুমকি দিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার জন্য বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমকে দায়ী করেছেন।



















