News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • দেশভাগের বেদনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে হবে: রতন লাল নাথ
Image

দেশভাগের বেদনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে হবে: রতন লাল নাথ

আগরতলা, ১৪ আগস্ট: দেশভাগের বেদনাদায়ক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের ঐক্য, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

শুক্রবার স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, এই দিনটি শুধুমাত্র অতীতকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং বিভাজন, বিদ্বেষ ও হিংসা কীভাবে একটি সমাজ ও প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে, তা উপলব্ধি করে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়ার দিন।

তিনি বলেন আজ আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে যে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। দীর্ঘ সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং কোটি কোটি ভারতবাসীর স্বপ্নের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট আমরা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে এসেছিল দেশভাগের যন্ত্রণা। এই বিভাজন শুধুমাত্র মানচিত্রের ওপর একটি ভৌগোলিক বিভাজন ছিল না; এক রাতের মধ্যে কোটি কোটি মানুষের জীবন আমূল বদলে গিয়েছিল।

রতন লাল নাথ বলেন, দেশভাগের ফলে অসংখ্য মানুষ রাতারাতি সর্বস্ব হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হন। অনেকেই হারিয়েছিলেন নিজেদের বাড়িঘর, পৈতৃক ভিটেমাটি ও পরিচিত সামাজিক পরিসর। স্বাধীনতার পরও বহু মানুষ জানতেন না, তাঁদের গন্তব্য কোথায়।

তিনি আরও বলেন আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের যে বন্ধন ছিল, দেশভাগের ফলে তার অনেকটাই ছিন্ন হয়ে যায়। আমাদের বাবা-মায়েরা যে ইতিহাস নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শুনিয়েছেন, সেই ইতিহাসও আমাদের মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতা কেউ আমাদের পুরস্কার হিসেবে দেয়নি। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, কারাবরণ, সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানানো মানে সেই সমস্ত বীর সন্তানদের প্রতিও সম্মান জানানো, যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের দিন যেমন আনন্দের, তেমনই দেশভাগের কারণে তা বেদনারও স্মারক। তাই ইতিহাসকে জানা, বোঝা এবং তার থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন দেশভাগের সেই কঠিন অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই স্মরণ দিবস আমাদের সেই বার্তাই দেয়।

অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মনিদীপ রায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য জয়লাল দাস, সমাজসেবী কার্তিক আচার্য-সহ কলেজের অধ্যাপক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা দেশাত্মবোধক নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। পরে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Releated Posts

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে নারীশক্তি ও যুবসমাজের সাফল্যের প্রশংসা রাষ্ট্রপতি মুর্মুর

নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশের নারীশক্তি ও যুবসমাজের অগ্রগতির প্রশংসা করলেন রাষ্ট্রপতি…

ByBySandeep Biswas Aug 14, 2026

সবার আগে দেশ, প্রতিটি মানুষের মনে সেই ভাবনা রাখতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ আগস্ট: ইতিহাস ভুলে গেলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। দেশের জাতীয় পতাকার মধ্যে…

ByByReshmi Debnath Aug 14, 2026

শহরের রাস্তায় অবৈধ পার্কিং নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, বাড়ছে পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ

আগরতলা, ১৪ আগস্ট: শহরাঞ্চলে যত্রতত্র গাড়ি, মোটরসাইকেল ও স্কুটার পার্কিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিকদের আরও সচেতন ও…

ByByTaniya Chakraborty Aug 14, 2026

সরকারি চাকরিতে পিআরটিসি ইস্যুতে পুনর্বিবেচনার আহ্বান টিটিইএ-র

আগরতলা, ১৪ আগস্ট: সরকারি চাকরিতে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক না রাখার রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে স্থানীয় যুবকদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর…

ByByTaniya Chakraborty Aug 14, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top