News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • নিয়োগ বিতর্কে এডিসি প্রশাসনে অস্বস্তি, ১৫ নিয়োগপ্রাপকের বেতন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
Image

নিয়োগ বিতর্কে এডিসি প্রশাসনে অস্বস্তি, ১৫ নিয়োগপ্রাপকের বেতন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

আগরতলা, ১৩ আগস্ট: কথিত নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় বড় ধাক্কা খেল ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) প্রশাসন। মামলায় সরাসরি পক্ষভুক্ত ১৫ জন নিয়োগপ্রাপকের বেতন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন।

মামলাকারীদের অভিযোগ, যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথ সুযোগ না দিয়ে নিয়মবহির্ভূত পদ্ধতিতে এবং স্বজনপোষণের মাধ্যমে এডিসিতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি বিধি অনুসরণ করা হয়নি। আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলা দায়েরের আগে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য ও আইনি ভিত্তি জানতে জেলা পরিষদকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিনের শুনানিতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি হলফনামা আদালতে জমা দেওয়া হয়। মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, ওই হলফনামায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়োগবিধি ছিল না। পাশাপাশি যে পদগুলিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলির অনুমোদিত ‘স্যাংশন পোস্ট’ও ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলাকারীদের পক্ষের বক্তব্য, জেলা পরিষদের হলফনামার তথ্যেই তাঁদের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি প্রতিফলিত হয়েছে। মামলায় পক্ষভুক্ত ১৫ জন নিয়োগপ্রাপকের বক্তব্য শোনার সুযোগ রেখেই তাঁদের বেতন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হলেও আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি বলে জানান মামলাকারীদের আইনজীবী।

এদিকে, মামলাকারীদের দাবি, এডিসি এলাকায় একই পদ্ধতিতে আরও প্রায় ২০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। যদিও মামলাকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁদের উদ্দেশ্য কারও চাকরি কেড়ে নেওয়া নয়। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, মেধা, যোগ্যতা এবং আইনসম্মত ও প্রকাশ্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

যোগ্য প্রার্থীরা যাতে সমান সুযোগ পান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপোষণের সুযোগ না থাকে, সেই দাবিতেই জনস্বার্থ মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান মামলাকারীদের আইনজীবী।

Releated Posts

রাজ্যে যে নাস্তিকতার পরিবেশ ছিল, তা পরিবর্তন করে আমরা আস্তিকতার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা।…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

জাতীয় স্তরেও সম্মানের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী রিসা

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার জনজাতিদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত রিসা এবার জাতীয় স্তরেও সম্মানের সঙ্গে অতিথি…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

আগরতলায় বিএসএফ ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘সঞ্জীবনী-৩’, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণকে সামনে রেখে আগরতলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026

দুই জনজাতি যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে উত্তেজনা

তেলিয়ামুড়া, ১৩ সেপ্টেম্বর: দুই জনজাতি যুবকের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় তেলিয়ামুড়া…

ByByReshmi Debnath Sep 13, 2026
Scroll to Top