আগরতলা, ১২ আগস্ট: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা ধনপুর বিধানসভার তেল কাজলা ও বানিয়াছড়া এলাকার সংযোগকারী ঐতিহ্যবাহী তেল কাজলা ঝুলন্ত সেতুতে ফের দুর্ঘটনা। বুধবার সেতু দিয়ে খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেতুর ফাঁকে পা আটকে গুরুতরভাবে আহত হন আব্দুল বারেক নামে প্রায় ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ।
জানা গেছে, সেতুটির দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানানো হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তাদের কাছে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও সেতুটির সংস্কারে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এদিন সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই ফাঁকে পা গলিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন আব্দুল বারেক। তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লাগে এবং ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠার পর তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল বারেককে উদ্ধার করে সেতুর পাশের একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে মাথায় জল ঢেলে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁর জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সেতুটির বেহাল অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার সতর্ক করেছিলাম। যেকোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু বিধায়ক কিংবা প্রশাসন—কারও কাছেই আমাদের কথা পৌঁছয়নি। আজ আব্দুল বারেক বাবুর সঙ্গে যা ঘটল, কাল কোনও ছোট শিশুর সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, তেল কাজলা ঝুলন্ত সেতুটি বহু মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই আর কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে অবিলম্বে সেতুটির সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সেতুটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার পর প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করার কারণেই আজ সাধারণ মানুষকে এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে। এখন দ্রুত সেতুটি সংস্কারে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।



















