নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): অভ্যন্তরীণ একাধিক সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতে ভারতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ চলতে থাকা বিক্ষোভ এবং বালোচিস্তানে বাড়তে থাকা অস্থিরতার জেরে ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে কোনও বড় অভিযানের কথা ভাবতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে ভারতকে উচ্চ সতর্কতায় থাকতে হবে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ চাপ এতটাই বেড়েছে যে লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি)-এ উসকানির সম্ভাবনা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এলওসি-তে কোনও ধরনের ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপও বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তান। সম্প্রতি পরপর দুটি হামলার ঘটনাকে উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ফের সক্রিয় করার জন্য পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর প্রচেষ্টার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তমুখী একাধিক এলাকায় প্রায় ২৫০টি চিনা নির্মিত এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিমি ট্রাক-মাউন্টেড স্বচালিত হাউইৎজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সিয়ালকোট, গুজরানওয়ালা এবং জলালপুর জাট্টানের কাছাকাছি এলাকাতেও এই অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাকে বসানো এই কামানগুলি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে হামলা চালাতে সক্ষম এবং এগুলির পাল্লা প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার।
ভারত এই সমস্ত গতিবিধির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা এবং যে কোনও ধরনের সম্ভাব্য উসকানি মোকাবিলায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এক আধিকারিকের দাবি, পিওকে এবং বালোচিস্তানে সাধারণ মানুষের উপর কথিত অত্যাচার নিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রশ্ন বাড়ছে। দুই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ইসলামাবাদের উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে জনসাধারণের নজর সরাতে পাকিস্তান বহির্মুখী উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনাগুলি নিয়ে সরব হওয়ার আগেও ইসলামাবাদের দ্রুত কোনও ‘বিকল্প ইস্যু’ তৈরি করার প্রয়োজন হতে পারে বলে ওই আধিকারিকের দাবি।
আরেক আধিকারিকের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপর অভ্যন্তরীণ চাপও বেড়েছে। পিওকে ও বালোচিস্তানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর কৌশল নিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইমরান খানকে ঘিরে পরিস্থিতি এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের উপর তৈরি হওয়া চাপও মুনিরের জন্য সমস্যা বাড়িয়েছে বলে ওই আধিকারিকের দাবি।
এদিকে, ভারতে সক্রিয় পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলিকেও ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করছে আইএসআই বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালানোর জন্য স্লিপার সেলগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক মডিউল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ধ্বংস করেছে বলেও সূত্রের দাবি।
পাশাপাশি ভারতবিরোধী ভুয়ো প্রচার চালাতেও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রচার শাখাকে সক্রিয় করেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, জঙ্গি তৎপরতা, প্রচারযুদ্ধ এবং সীমান্তে সম্ভাব্য উসকানি—সবকিছুই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে নজর ঘোরানোর কৌশলের অংশ হতে পারে।
পিওকে এবং বালোচিস্তানে পাকিস্তান অতীতেও একাধিকবার অস্থিরতার মুখে পড়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। ইসলামাবাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে এবং দ্রুত কোনও সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে এলওসি-তে সম্ভাব্য উসকানি, দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলার চেষ্টা এবং ভারতবিরোধী প্রচার—সবকিছুর উপরই নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
_______


















