নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসের আগে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-সমর্থিত উপাদানগুলি ভারতে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সতর্ক হয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার।
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে একাধিক গোয়েন্দা তথ্যে সতর্ক করা হয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় ধরনের হামলার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার চেষ্টা করতে পারে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরো আধিকারিক জানান, আইএসআই মনে করছে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে দিল্লি এবং জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর মূলত ১৫ আগস্টের আয়োজন ঘিরেই থাকবে।
ওই আধিকারিক সতর্ক করে বলেন, “আইএসআই এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং স্বাধীনতা দিবসের দিন বা তার আগে বড় ধরনের কিছু করার চেষ্টা করতে পারে।”
আধিকারিকের মতে, প্রথমে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়েও জঙ্গিদের ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এছাড়া মেট্রো ও বড় শহরগুলির তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা দ্বিতীয় সারির শহরগুলিকেও আইএসআই নিশানা করার চেষ্টা করতে পারে।
আরেক আধিকারিক জানান, সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া যোগাযোগের তথ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে আইএসআই চাপের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং বালোচিস্তানের মতো অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী চাপে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতে বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি জানান।
তাঁর মতে, স্বাধীনতা দিবসে ভারতে হামলা চালাতে পারলে পাকিস্তানের জন্য সেটি একটি বড় ধরনের নজর ঘোরানোর কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমানে পাঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর এবং দিল্লিতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। অতীতেও এই এলাকাগুলি পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার নিশানায় ছিল। এই তিন অঞ্চলের কোনও একটিতে হামলা হলে তার প্রভাব বড় হতে পারে। তবে বর্তমানের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেখানে হামলা চালানো আইএসআইয়ের পক্ষে কঠিন হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
আরেক আধিকারিক সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর অন্যদিকে ঘোরাতে আইএসআই ভুয়ো হামলার সতর্কবার্তাও ছড়াতে পারে। দিল্লি বা কাশ্মীরে বড় হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়ে একাধিক গোয়েন্দা তথ্য ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে।
তবে এই ধরনের অনেক গোয়েন্দা তথ্য সরাসরি অভিযান চালানোর মতো নির্দিষ্ট বা কার্যকর নয়। বাস্তবে অন্য কোনও জায়গায় হামলার পরিকল্পনা করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর দিল্লি বা কাশ্মীরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য হতে পারে বলে ওই আধিকারিক জানান।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—দুই সীমান্তই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আইএসআই এই দুই সীমান্তে সবচেয়ে বেশি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সীমান্ত সুরক্ষায় কোনওরকম খামতি রাখা হচ্ছে না।
পাকিস্তান সীমান্তের পশ্চিম প্রান্তে ইতিমধ্যেই ‘অপারেশন অ্যালার্ট’ শুরু করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ১৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিএসএফের সমস্ত পদমর্যাদার শীর্ষ আধিকারিক এতে অংশ নিচ্ছেন। আইএসআইয়ের সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এক আধিকারিক জানান, অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের সম্ভাব্য চেষ্টা সম্পর্কেও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। এই সময় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী সীমান্তের প্রতিটি গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখবেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও টহলদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে প্রায় ৪০টি সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা এসবিআই ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
এক আধিকারিকের মতে, গোয়েন্দা ব্যুরোর মাঠপর্যায়ের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় উদ্যোগ। এই সীমান্তের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন ধরেই এমন পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। নতুন এসবিআই ইউনিটগুলি সেখানে গোয়েন্দা ব্যুরোর স্থায়ী কার্যকরী উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
আধিকারিক বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জরুরি। সীমান্তে নিয়মিত চোরাচালান, অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং অন্যান্য উগ্রপন্থী কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়। এই ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যে কোনও নাশকতামূলক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তা প্রতিহত করার জন্য রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
–আইএএনএস



















