লখনউ, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): কেন্দ্রের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের আওতায় উত্তরপ্রদেশে রবিবার ‘যুবকদের সঙ্গে তিরঙ্গা যাত্রা’ কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দেশাত্মবোধক এই পদযাত্রায় বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির উত্তরপ্রদেশ সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী, রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও ব্রজেশ পাঠক-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও পদাধিকারী।
তিরঙ্গা যাত্রার সূচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল নেতা ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “তিরঙ্গা যাত্রার সূচনায় উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানাই। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও ব্রজেশ পাঠককেও স্বাগত জানাই।”
যোগী বলেন, “আমাদের যুবসমাজ শক্তির প্রতীক। দেশের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের যুবকদের রয়েছে। এই যুবশক্তিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং দেশ ও সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার উপযুক্ত মঞ্চ দিতে হবে। একইসঙ্গে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে। এই লক্ষ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে সারা দেশে তিরঙ্গা যাত্রা শুরু করা হচ্ছে।”
তিরঙ্গা যাত্রায় যুবকদের উৎসাহপূর্ণ অংশগ্রহণ দেখা যায়। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রায় অংশ নেন তাঁরা। দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে গোটা দেশে নতুন পরিবর্তন ও জাতীয় চেতনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং উত্তরপ্রদেশ তার অন্যতম উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “গোটা দেশে নতুন পরিবর্তন এসেছে এবং উত্তরপ্রদেশ তার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক কর্তব্য পথ তৈরি হয়েছে। আবদুল কালাম এবং আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে বিভিন্ন নির্মাণকাজও হয়েছে।”
তিরঙ্গা যাত্রা দেশের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে বলে মন্তব্য করেন শর্মা। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই ধরনের যাত্রায় বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “তিরঙ্গা যাত্রা দেশের প্রতি উৎসর্গের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কোটি কোটি মানুষ এই যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। এক অর্থে তিরঙ্গা যাত্রা নতুন জাগরণের উৎসব।”
বিজেপি নেত্রী পূজা পাল ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানকে ব্যাপক আকার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি অত্যন্ত বড় আকারে হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান পরিচালনা করেছেন। বহু বছর ধরে তিনি দেশের জন্য, জাতীয় গৌরবের জন্য এবং তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। একইসঙ্গে দেশের মানুষকে কীভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার অনুভূতি গড়ে তুলতে হবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন।”
বিজেপির উত্তরপ্রদেশের সহ-সভাপতি নীরজ সিং বলেন, তিরঙ্গা শুধু তিনটি রঙের একটি পতাকা নয়, এর সঙ্গে দেশের আত্মত্যাগ, পবিত্রতা এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি শুধুমাত্র তিন রঙের পতাকা নয়। তিরঙ্গার এই উদযাপন আমাদের আত্মত্যাগ, পবিত্রতা এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতীক।”
২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও উল্লেখ করেন নীরজ সিং। তাঁর কথায়, “আজ আমাদের যুবসমাজ এই গোটা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই যুবকরাই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্প পূরণ করবে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বও এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।”
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নাগরিকদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং তিরঙ্গা ও জাতীয় গৌরব উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে, বিশেষ করে যুবসমাজকে যুক্ত করতে এই অভিযানের অধীনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।



















