News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • সন্ত্রাস-যোগের মামলায় সোপোরে ২৬টি জায়গায় তল্লাশি জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের
Image

সন্ত্রাস-যোগের মামলায় সোপোরে ২৬টি জায়গায় তল্লাশি জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের

শ্রীনগর, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): নিষিদ্ধ জামাত-ই-ইসলামি (জেইআই)-র বিরুদ্ধে ইউএপিএ মামলার তদন্তে রবিবার জম্মু-কাশ্মীরের সোপোরে একসঙ্গে ২৬টি জায়গায় তল্লাশি চালাল পুলিশ।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ জেইআইয়ের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে বের করা এবং তদন্তের স্বার্থে প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।

জামাত-ই-ইসলামি জম্মু-কাশ্মীর একটি সামাজিক-ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন, যা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গড়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র আওতায় সংগঠনটিকে বেআইনি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসবাদী যোগের অভিযোগে সংগঠনটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অভিযান আরও জোরদার হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও পাঁচ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ায়।

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব প্রচারের অভিযোগকে সংগঠনটির উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।

জামাত-ই-ইসলামি জম্মু-কাশ্মীর ১৯৫০-এর দশকে একটি পৃথক শাখা হিসেবে গঠিত হয়। ইসলামপন্থী চিন্তাবিদ সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদীর মতাদর্শের প্রভাব ছিল সংগঠনটির উপর। সংগঠনটি রক্ষণশীল ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রচারের পাশাপাশি বিস্তৃত স্কুল নেটওয়ার্ক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করত।

ঐতিহাসিকভাবে সংগঠনটি কাশ্মীরকে একটি বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে দাবি করে এসেছে এবং কয়েক দশক ধরে মূলধারার গণতান্ত্রিক নির্বাচন বয়কট করেছে।

তবে জেইআইয়ের কিছু প্রাক্তন সদস্য পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পথ বেছে নেন। ২০২৪ সালের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনে জেইআইয়ের কয়েকজন প্রাক্তন সদস্য নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জেইআই থেকে কয়েকটি গোষ্ঠীও আলাদা হয়ে যায়। এর মধ্যে ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফ্রন্ট’ (জেডিএফ-জম্মু-কাশ্মীর) অন্যতম। জেইআইয়ের একাধিক প্রাক্তন কর্মী দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই ধরনের উদ্যোগ সামনে আসে।

জেইআইয়ের উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন মৌলানা সাদউদ্দিন তারাবালি। ১৯৫৩ সালে তিনি জম্মু-কাশ্মীরে জেইআই প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির প্রধান ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিংসা ছড়িয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত তিনি জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন।

সংগঠনটির অন্যতম পরিচিত ও বিতর্কিত নেতা ছিলেন সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। বিচ্ছিন্নতাবাদী হিংসা শুরু হওয়ার আগে তিনি জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনে আটবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনবার জয়ী এবং পাঁচবার পরাজিত হন।

পরবর্তীকালে জেইআইয়ের মূলধারার নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিলানি ‘তেহরিক-ই-হুরিয়ত’ গঠন করেন। দীর্ঘদিন ধরে কট্টরপন্থী ও পাকিস্তানপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত গিলানি ২০২১ সালে মারা যান।

Releated Posts

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন: বিজেপি প্রার্থীর হলফনামা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে কংগ্রেস

কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামায় বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত…

ByByNews Desk Sep 23, 2026

মাদকমুক্ত বাংলা গড়ার অঙ্গীকার, ড্রাগ পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গকে মাদকমুক্ত করতে তাঁর সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে বুধবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবৈধ মাদক…

ByByNews Desk Sep 23, 2026

মায়াবতীর ভাইপো ইশান আনন্দকে বিএসপির জাতীয় কনভেনর নিয়োগ

লখনউ, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সাংগঠনিক রদবদলের মধ্যে নিজের ভাইপো ইশান আনন্দকে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র জাতীয় কনভেনর হিসেবে…

ByByNews Desk Sep 23, 2026

কলকাতা, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ১৬টি স্থানে ইডির তল্লাশি, অর্থ পাচার ও এফইএমএ লঙ্ঘনের অভিযোগ

কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আর্থিক অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন এবং একটি কর্পোরেট সংস্থা অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে…

ByByNews Desk Sep 23, 2026
Scroll to Top