News Flash

  • Home
  • দেশ
  • হাইওয়ে প্রকল্পের ১৮৭ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ, রিলায়েন্স ইনফ্রার বিরুদ্ধে মামলা ইডির
Image

হাইওয়ে প্রকল্পের ১৮৭ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ, রিলায়েন্স ইনফ্রার বিরুদ্ধে মামলা ইডির

নয়াদিল্লি, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): হাইওয়ে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর সংস্থা রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের (আরআইএল) বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর আওতায় মামলা দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রবিবার এক বিবৃতিতে তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, দিল্লির একটি বিশেষ আদালতে শনিবার এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের পাশাপাশি সতীশ শেঠ এবং আরও কয়েকজনের নামও অভিযোগপত্রে রয়েছে। পিএমএলএ-র ৩ নম্বর ধারা এবং ৩ নম্বর ধারার সঙ্গে ৭০ নম্বর ধারা মিলিয়ে প্রযোজ্য বিধানের অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য পিএমএলএ-র ৪ নম্বর ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে।

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)-র বরাদ্দ করা চারটি টোল-রোড প্রকল্প থেকে সরকারি অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার একটি সংগঠিত চক্রান্ত করা হয়েছিল। প্রকল্পগুলির মধ্যে ছিল ত্রিচি-করুর (এনএইচ-৬৭), ত্রিচি-দিণ্ডিগুল (এনএইচ-৪৫), সেলম-উলুন্দুরপেট (এনএইচ-৬৮) এবং জয়পুর-রিংগাস (এনএইচ-১১)।

ইডির দাবি, এনএইচএআই-এর অনুদান এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলির অর্থায়ন করা হয়েছিল। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা ভুয়ো সাব-কন্ট্রাক্টিং কাজের নামে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই লেনদেনকে বৈধ বলে দেখাতে পরে তৈরি করা নথি, পূর্ববর্তী তারিখের নথি এবং কাল্পনিক ব্যবস্থাপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ইডির।

তদন্তকারী সংস্থার মতে, অর্থ প্রথমে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ উদ্দেশ্য সংস্থা (এসপিভি) এবং ইপিসি ঠিকাদারদের মাধ্যমে নির্মাণ ঠিকাদারদের কাছে যায়। এরপর সেই অর্থ এমন একাধিক শেল সংস্থার কাছে স্থানান্তর করা হয়, যাদের সড়ক নির্মাণের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না।

ইডির অভিযোগ, পরবর্তীতে ওই অর্থের লেনদেনকে প্রকল্পের বৈধ খরচ হিসেবে দেখানোর জন্য নথি তৈরি করা হয়। শেল সংস্থাগুলির মাধ্যমে অর্থের স্তরীকরণ করা হয় এবং এর একটি অংশ হীরে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেও ঘোরানো হয় বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।

এই মামলায় গত ৩ আগস্ট ইডি প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্থাবর সম্পত্তি, রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ার, যা রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের হাতে ছিল, এবং ক্ষীরাব্ধ কনস্ট্রাকশনস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন জমি।

এই মামলায় সতীশ শেঠকে গত ১২ জুন গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

মুম্বই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (ইওডব্লিউ)-এর ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি এই তদন্ত শুরু করে। ওই এফআইআরে জাল নথি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শেল সংস্থা তৈরি ও পরিচালনা এবং ভুয়ো ইনভয়েস ও অতিমূল্যায়িত হীরে আমদানির আড়ালে অর্থ স্থানান্তর ও বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ ছিল।

মামলায় আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।

—আইএএনএস

Releated Posts

শুধু বৃষ্টির ঘাটতি দিয়ে খরা ঘোষণা নয়, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত: গুজরাট সরকার

গান্ধীনগর, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শুধুমাত্র বৃষ্টিপাতের ঘাটতির ভিত্তিতে গুজরাটের কোনও জেলাকে খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হবে না বলে শুক্রবার…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সড়কে বাধাহীন টোল ব্যবস্থা চালু হবে: নীতিন গডকরি

মুম্বই, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও বাধাহীন হাইওয়ে টোল ব্যবস্থা চালু করা হবে…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার নৌপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় নৌপ্রধান, সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

ক্যানবেরা, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নৌপ্রধান ভাইস…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

ব্রিকসের বৈশ্বিক গুরুত্ব রয়েছে, ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতাও তুলে ধরে: শশী থারুর

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ব্রিকসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই জোটের গুরুত্বের পক্ষে সওয়াল করলেন কংগ্রেস সাংসদ…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026
Scroll to Top