কিয়েভ, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আমেরিকার কাছ থেকে প্রতি মাসে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে চুক্তি করেছে ইউক্রেন। তবে এই সরবরাহ দেশের আকাশ প্রতিরক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার ইউক্রেনীয় সংবাদ সংস্থা ইউক্রিনফর্মকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে শিনহুয়া।
বেলগ্রেডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন, ওয়াশিংটন প্রতি মাসে ইউক্রেনকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরবরাহের পরিমাণ দেশের আকাশ প্রতিরক্ষার প্রয়োজনের তুলনায় কম।
জেলেনস্কি জানান, ২০২৬ সালে ইউক্রেন যে সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আশা করছে, তা ২০২৫ সালের তুলনায় কম হবে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেননি তিনি।
এর আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ন্যাটোর নেতৃত্বের সঙ্গে এক সাংবাদিক বৈঠকে জেলেনস্কি বলেছিলেন, মিত্র দেশগুলির কাছ থেকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত সরবরাহ কমে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণেই মূলত এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, জুলাইয়ের গোড়ায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের পর তাঁর ধারণা, উভয় নেতাই এখন যুদ্ধের অবসান চান বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে অগ্রগতি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনও অগ্রগতি সম্ভব কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন তা সম্ভব। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর “খুব ভালো” এবং দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এরপর জেলেনস্কির সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, তাঁরা দু’জনেই একটি চুক্তিতে পৌঁছতে চান। এত সময় লেগে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক, তবে আমার মনে হয় এর থেকে কিছু একটা বেরিয়ে আসবে।”
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে এরদোয়ানও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্টও এই প্রচেষ্টায় সাহায্য করছেন।
যদিও দ্রুত কোনও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন, ট্রাম্প বলেন, অনেক সময় যখন প্রত্যাশা সবচেয়ে কম থাকে, তখনই আলোচনা এগিয়ে যায়।



















