আগরতলা, ৮ আগস্ট: আরক্ষা প্রশাসনের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার পরও প্রদেশ যুব কংগ্রেসের কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।
আজ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। বিকেল ৫টা থেকে ছাত্রদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ও চাকরির সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার কথা ছিল তাঁর। সেই বক্তব্য রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি প্রচারের উদ্যোগ নেয় প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় এলইডি স্ক্রিন বসানোর জন্য আগাম আরক্ষা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি যুব কংগ্রেসের। শনিবার সকালে শ্রমিকরা স্ক্রিন বসানোর কাজ শুরু করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর জন্য আগরতলা পুর নিগমের কাছ থেকেও অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুব কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, এর আগে শকুন্তলা রোড এলাকায় একই ধরনের কর্মসূচি করা হলেও পুর নিগমের কাছ থেকে আলাদা কোনও অনুমতি নিতে হয়নি। তাহলে এবার কেন পুর নিগমের অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে দুপুর নাগাদ দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছান বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে আসে পশ্চিম থানার পুলিশ, সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং আগরতলা পুর নিগমের আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক।
আলোচনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন দাবি করেন, বর্তমানে কোনও নির্বাচন আচরণবিধি চালু নেই। তাই সাধারণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে পুর নিগম বা মহকুমা প্রশাসনের কাছ থেকে অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন নেই। তাঁর প্রশ্ন, যদি পুর নিগমের অনুমতি আবশ্যক হয়, তাহলে আরক্ষা প্রশাসন কীভাবে আগে কর্মসূচির অনুমতি দিল?
তিনি আরও বলেন, কর্মসূচি নির্ধারিত স্থানেই হবে। বাধা দেওয়া হলে তাঁকে গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জও জানান বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসন চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু কংগ্রেস কর্মসূচি বাতিল করবে না।
পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ রায় বর্মন অভিযোগ করেন, প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি মঞ্চ করে কর্মসূচি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুর নিগম সেই কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি শাসক দলের বিভিন্ন কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বিধায়কের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। শাসকদলের কর্মসূচির ক্ষেত্রে এক ধরনের নিয়ম এবং বিরোধীদের ক্ষেত্রে অন্য ধরনের নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিন দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রশাসন ও কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত যুব কংগ্রেসের কর্মসূচি কীভাবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে।


















