বানাসকাঁঠা, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): গুজরাট পুলিশের স্টেট মনিটরিং সেল রাজ্যের বানাসকাঁঠা জেলায় একটি বড় অভিযানে ১.২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় তৈরি বিদেশি মদ ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃরাজ্য মদ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে স্টেট মনিটরিং সেল-র এটি অন্যতম বড় অভিযান বলে জানা গেছে।
গুজরাটে মদ নিষিদ্ধ আইন কার্যকর থাকায় রাজ্যের বাইরে থেকে মদ পাচার রুখতে স্টেট মনিটরিং সেল ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বানাসকাঁঠা জেলার থারা তালুকের থারা-রাধনপুর সড়কের ন্যাশনাল হাইওয়ে-২৭-এর উন গ্রামের ওভারব্রিজের নিচে অভিযান চালায় স্টেট মনিটরিং সেল-এর দল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ একটি ট্রাক আটক করে। অভিযোগ, ওই ট্রাকে গুজরাটে বেআইনিভাবে বিক্রির জন্য মদ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তল্লাশিতে ট্রাক থেকে ১৬,৩৪৯টি আইএমএফএল বোতল উদ্ধার করা হয়। বাজেয়াপ্ত মদের মূল্য ১,০৫,১২,৪৫১ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া পুলিশ ট্রাক (মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা), দুটি মোবাইল ফোন (মূল্য ১০ হাজার টাকা), ২১০ টাকা নগদ, ঢাকার কাপড়, দড়ি, ১৫০ বান্ডিল বর্জ্য কাপড়, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করেছে। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১,২০,২২,৬৬১ টাকা।
ঘটনাস্থল থেকে রাজস্থানের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের পরিচয় হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা হলেন বারমের জেলার ধোরিমান্না তালুকের আদর্শ লুখু গ্রামের ট্রাক চালক ওমপ্রকাশ কাকল এবং খালাসি জিতেন্দ্রকুমার কাকল।
এই ঘটনায় গুজরাট প্রোহিবিশন অ্যাক্টের ৬৫(এ), ৬৫(ই), ১১৬(বি), ৮১, ৮৩ ও ৯৮(২) ধারার পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৬(২), ৩৩৬(৩), ৩৪০(২) এবং ৫৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ আরও কয়েকজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বারমের জেলার সোডিয়ার গ্রামের কথিত মদ সরবরাহকারী হরিশ কুকানা, ট্রাকের মালিক, ভুজের এক অজ্ঞাত গ্রাহক এবং লুধিয়ানা থেকে মদের চালান ট্রাকে তোলার সঙ্গে যুক্ত আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মদ পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্টেট মনিটরিং সেল-এর সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই বাজেয়াপ্তি অন্যতম। চলতি বছরের জুন মাসে দেহগামের কাছে অভিযান চালিয়ে আইএমএফএল -সহ ১৬.৭২ লক্ষ টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।
জুলাই মাসে গান্ধীনগর জেলায় অভিযানে ৬.২৮ লক্ষ টাকার আইএমএফএল উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মোট মূল্য ছিল ১৬.৩৯ লক্ষ টাকা।



















