ছত্রপতি সম্ভাজীনগর, ৭ আগস্ট(আইএএনএস): আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, দুই সংগঠনের বক্তব্যে স্পষ্ট সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে এবং বিজেপি নেতৃত্বের উচিত মোহন ভাগবতের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে জেন জেড এবং জেন আলফা-র পড়ুয়াদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন, জেন জেড প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী বলা উচিত নয়। তাঁদের আন্দোলনের পেছনে প্রকৃত সমস্যা রয়েছে এবং সেই অভিযোগগুলিও যথার্থ।
শুক্রবার নিজের শহর ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, মোহন ভাগবতজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ছিল, জেন জেড এবং তরুণদের দেশবিরোধী বলা উচিত নয়। যারা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে এবং তাঁদের সমস্যাগুলিও বাস্তব।
তিনি বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আরএসএস প্রধানের এই বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনা উচিত।
দীপকের অভিযোগ, জন্তর মন্তরে তাঁদের আন্দোলনের সময় বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন আন্দোলনকারীদের “ভাইরাস” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। পাশাপাশি, তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁদের “সন্ত্রাসবাদীদের বি-টিম” বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।
তাঁর কথায়, যাঁকে বিজেপির আদর্শগত পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক বলা হয়, তাঁর কথাই যদি দলের নেতারা না শোনেন, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগের। আমার মনে হয়, মোহন ভাগবতের নিজেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা উচিত।
দীপকে আরও দাবি করেন, মোহন ভাগবতের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে বিজেপি এবং আরএসএস একই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তাঁর মতে, দুই সংগঠনের বক্তব্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে এবং মতের অমিল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, জেন জেড যদি আন্দোলন করে, তাহলে তাঁদের দেশবিরোধী বলা যায় না। তাঁরা আমাদেরই আগামী প্রজন্ম। আমার বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মের তুলনায় জেন জেড ও জেন আলফা অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম এবং সমাজসেবার আন্তরিক আহ্বান তাঁদের কাছে গুরুত্ব পায়।
এদিকে, অভিজিৎ দীপকে জানান, ককরোচ জনতা পার্টির মূল লক্ষ্য কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করা নয়। বরং দেশ ও যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে সরকারের উপর গণতান্ত্রিক চাপ সৃষ্টি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, জন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে দেশের মানুষ যদি রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে একজোট হন, তাহলে সরকারের উপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।



















