নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): কেন্দ্রের সদ্য ঘোষিত গোবর্ধন প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্র দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত ৭৫ হাজার কোটি টাকার অবদান রাখবে বলে শুক্রবার সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী এক দশকে সিবিজি উৎপাদন প্রায় ১০ গুণ বাড়ানো হবে। এর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ‘সার্কুলার বায়োইকোনমি’ এবং সিবিজি উৎপাদকদের জন্য বাজার নিশ্চিত করতে বিশেষ সিবিজি অফটেক নিশ্চয়তা কাঠামো চালু করা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব দেশীয় গ্যাস প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাবে। পাশাপাশি বর্জ্যকে ল্যান্ডফিল থেকে সরিয়ে এনে বছরে ৪ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া প্রায় ২৫ কোটি মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, সিবিজি-এর জন্য নির্দিষ্ট বাজার নিশ্চিত করতে অফটেক ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রকল্পে সিবিজি-এর প্রশাসনিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,১১০ টাকা/এমএমবিটিইউ। এছাড়া প্রতি টিপিডি (টন পার ডে) উৎপাদন ক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা মূলধনী সহায়তা এবং এমএসএমই সংস্থাগুলির জন্য ৮৫ শতাংশ ক্রেডিট গ্যারান্টি দেওয়া হবে।
ভারতে পরিবহণ, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য সিবিজি-এর মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে কেন্দ্রের মত।
সিবিজি রাসায়নিকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সমতুল্য হওয়ায় বিদ্যমান গ্যাস পরিকাঠামোর সঙ্গে সহজেই যুক্ত করা যায়। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের গ্যাস ব্যবস্থার সম্প্রসারণেও সহায়তা করবে।
প্রতিটি সিবিজি প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। কৃষিজ বর্জ্য, গবাদি পশুর গোবর এবং অন্যান্য জৈব উপাদান সংগ্রহ, পরিবহণ, প্ল্যান্ট পরিচালনা ও জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার ২৩,৭৩১ কোটি টাকা ব্যয়ের গোবর্ধন প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩৫-৩৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের শক্তি ব্যবস্থায় সিবিজি-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রকল্পের আওতায় সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলির মাধ্যমে সিবিজও ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।



















