ঢাকা, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি সেন্ট্রাল জেলে রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। দলটি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আওয়ামী লীগের দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর দল-সমর্থিত রাজনৈতিক বন্দিদের ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার ও নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বন্দিদের পরিবার ও প্রাক্তন কয়েদিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা যখনই কোনও প্রকাশ্য বক্তব্য দেন, তখনই কারাগারে রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত খাবার সরবরাহ বন্ধ করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা।
আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, বুধবার শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর বন্দিদের দিনের বেশিরভাগ সময় খাবার ছাড়াই কাটাতে হয়েছে বলে কয়েকটি পরিবারের সদস্য অভিযোগ করেছেন। এছাড়া প্রাক্তন বন্দিদের উদ্ধৃত করে দলটি দাবি করেছে, নিজের অর্থ দিয়ে কারাগারের ক্যান্টিন থেকে খাবার কেনার ক্ষেত্রেও অনেক বন্দিকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
এক প্রাক্তন বন্দির অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বন্দিদের নিরাপদ পানীয় জলের পরিবর্তে শৌচাগারের জল পান করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে “অমানবিক এবং মর্যাদাহানিকর” বলে বর্ণনা করেছেন।
আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের কারাবন্দিদের ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড (নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস), যেখানে বন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার, পরিষ্কার পানীয় জল এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।”
দলটি আরও বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিযোগের ধরন নির্বিশেষে সব বন্দিই দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির অধীনে মৌলিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।
আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলি এই অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে সব বন্দির জন্য পর্যাপ্ত খাবার, নিরাপদ পানীয় জল, চিকিৎসা পরিষেবা এবং নির্যাতন থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে বাংলাদেশের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং মানুষ এখনও ভয়, নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বসবাস করছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি “কারচুপির নির্বাচনের” মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন হাসিনা। তিনি আরও জানান, গত দুই বছর ধরে ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফিরবেন।
হাসিনা বলেন, “কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ এখনও ভয়, সন্ত্রাস, হতাশা, অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।”



















