নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ আগস্ট: আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি) অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টে রাজ্যের চিকিৎসা ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রথমবারের মতো একটি জটিল হৃদরোগের (হার্টে ছিদ্র) সফল চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন কোনও ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়াই।
গোমতী জেলার, উদয়পুর রাজনগরের (৪৯) বৎসর বয়সী পূর্ণিমা ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শ্বাসকষ্ট ও বারবার বুকে ব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৬ জুলাই পরিবারের লোকেরা তাকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রথমে কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান ও ইন্টারভেনশন্যাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ অনিন্দ্য সুন্দর ত্রিবেদী রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রাথমিক কতগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে ডাঃ ত্রিবেদী মহিলার এট্রিয়াল সেপটাল ডিফেক্ট (এএসডি) নামে একটি জন্মগত হৃদরোগ চিহ্নিত করেন। এই ধরনের সমস্যায় হৃদপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠের (ডান ও বাম) এট্রিয়ামে মাঝের পর্দায় একটি ছিদ্র থাকে। ডাঃ ত্রিবেদী মহিলার হৃদপিণ্ডের এই সমস্যাটি ইন্টারভেনশনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩১ জুলাই ডাঃ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম ওপেন সার্জারি ছাড়াই রক্তনালীর মাধ্যমে অত্যন্ত জটিল এই চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর হৃদযন্ত্রের ছিদ্র সফলভাবে বন্ধ করা হয়। ফলে পূর্ণিমা ঘোষ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে এবং তার শ্বাসকষ্ট ও বুকে সংক্রমণের সমস্যা দূর হয়। এরপর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে গত ৫ আগস্ট মহিলাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
এই সফল চিকিৎসা কার্যক্রমে ডাঃ অনিন্দ্য সুন্দর ত্রিবেদীর সাথে সহযোগিতায় ছিলেন কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রাকেশ দাস এবং ডাঃ মান্না ভট্টাচার্য। অ্যানেস্থেসিয়া টিমে ছিলেন কনসালট্যান্ট কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ রিমঝিম চাকমা এবং কনসালট্যান্ট অ্যানেস্থেটিস্ট ডাঃ মনিময় দেববর্মা।
এছাড়াও এই চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ সম্রাট দাস, ডাঃ অ্যারিস্টল ত্রিপুরা, ডাঃ খামিলি দেববর্মা এবং ডাঃ দেবাশিস রিয়াং। ইকো টেকনিশিয়ান ছিলেন কিষাণ রায়, ক্যাথল্যাব ও টেকনিক্যাল টিমে ছিলেন নার্সিং অফিসার দেবব্রত দেবনাথ, প্রাণকৃষ্ণ দেব, মানস দত্ত, তিতিক্ষা মজুমদার এবং টেকনিশিয়ান সঞ্জয় ঘোষ ও অরিজিৎ পাল সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা।
উল্লেখ্য, এই ধরনের চিকিৎসা কোনও বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণত ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় রোগীর সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন হয়েছে। জিবিপি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো, উন্নত ক্যাথল্যাব সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং রাজ্য সরকারের জনমুখী স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালেই বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন। এই সাফল্য রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন এবং সকলের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



















