কাঠমান্ডু, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত-নেপাল সীমান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নেপালের জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড বা এনআইডি) বৈধ ভ্রমণ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে নেপাল। পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মানুষের অবাধ যাতায়াতকে আরও সহজ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নেপালের অভিবাসন দফতরের মহাপরিচালক রামচন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছেন, গত জুন মাসের শেষদিকে ভারত সরকারের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভারত নেপালের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের শংসাপত্রকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এবার নেপাল চাইছে, বিমান যাত্রা এবং সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রেও এনআইডিকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হোক।
নেপালের জাতীয় পরিচয়পত্র ভারতের আধারের মতোই বায়োমেট্রিকভিত্তিক। এতে আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি এবং আইরিস স্ক্যানের মতো তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ইতিমধ্যেই পাসপোর্টের আবেদন, জমি নিবন্ধন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে এই পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধীরে ধীরে প্রচলিত নাগরিকত্বের কাগজের শংসাপত্রের পরিবর্তে ডিজিটালভাবে যাচাইযোগ্য এই পরিচয়পত্র চালু করতে চাইছে নেপাল সরকার।
রামচন্দ্র তিওয়ারির দাবি, প্রচলিত নাগরিকত্বের শংসাপত্রে কোনও বায়োমেট্রিক তথ্য থাকে না, কিন্তু এনআইডি অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচয়পত্র। ভারত এই কার্ডকে স্বীকৃতি দিলে দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
নেপালের এই প্রস্তাবের পর সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা এনআইডির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে নেপালের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে এটি কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছিল না, বরং তথ্য বিনিময়ের অংশ ছিল বলে জানিয়েছেন তিওয়ারি।
ভারত ও নেপালের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ফলে দুই দেশের নাগরিকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে পারেন। বর্তমানে বিমানপথে নেপালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকরা পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র অথবা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের ইস্যু করা পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারেন।
নেপালের জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিক নিবন্ধন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৪৫ লক্ষেরও বেশি নেপালি নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ এই কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন।
























