আগরতলা, ৩ আগস্ট: ত্রিপুরার রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থায় তীব্র প্রশাসনিক সংকটের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে চিঠি দিয়েছেন তিপরা মথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় মোট ৯টি সরকারি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিধায়ক তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, প্রধান শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়গুলো কার্যত “অভিভাবকহীন প্রতিষ্ঠানে” পরিণত হয়েছে। এতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গৌরাঙ্গটিলা, রতনপুর ও অমপুরা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক—উভয় পদই শূন্য রয়েছে।
এছাড়া বাইজলবাড়ি, বীরচন্দ্রপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। এর মধ্যে বড়ময়দান উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষকও আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করবেন, ফলে প্রশাসনিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে কেএমআর, দেবেন্দ্র চৌধুরী ও ওয়ান্ডালওয়াং উচ্চ বিদ্যালয়ের স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বৈজলবাড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, যা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। দক্ষ ও স্থায়ী নেতৃত্ব ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
এদিকে, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই পরিস্থিতিতে রামচন্দ্রঘাটের ৯টি বিদ্যালয়ে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
























