নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) চলমান ধাপে ধাপে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে হিংসা, প্রাণহানি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বহু বাসিন্দার দাবি, এই নির্বাচন বৈধ নয় এবং প্রকৃত গণপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে ইসলামাবাদ পিওজেকের রাজনীতিতে অযাচিত প্রভাব বিস্তার করছে এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত নাগরিক অধিকার সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সংগঠনটি সংরক্ষিত আসন বাতিলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও তুলেছে।
ভারত ইতিমধ্যেই এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এই ভোট পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা মাত্র।
পিওজেকে বিধানসভার মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৩৩টি আসন পিওজেকের বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে ইসলামাবাদ নিজেদের অনুগত প্রতিনিধিদের বিধানসভায় পাঠিয়ে প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
বাসিন্দাদের দাবি, নির্বাচন কার্যত ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-সহ মূলধারার পাকিস্তানি রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে, অথচ ভিন্নমতকে দমন করা হয়।
ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ভোট বয়কট এবং জেএএসি-র আন্দোলন নির্বাচনী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের দাবির মধ্যে গভীর ব্যবধানকে সামনে এনেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিওজেকে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ পাকিস্তানে সরবরাহ করা হলেও এলাকার মানুষকে উচ্চ হারে বিদ্যুতের মূল্য দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি, আটা-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য জনঅসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে। তবে পাকিস্তান প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পথেই এগোচ্ছে বলে অভিযোগ। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই অশান্তিতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
জেএএসি-র দাবি, সংরক্ষিত আসন বাতিলের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বিদ্যুতের মূল্য কমাতে হবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি বাড়াতে হবে, গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তি দিতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে পিওজেকে প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন এবং ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
২০২৩ সালে গঠিত জেএএসি আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে তৈরি একটি জোট। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি পিওজেকের অন্যতম প্রভাবশালী গণআন্দোলনের মঞ্চ হয়ে ওঠে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, তাদের নেতারা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।



















