নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে হিংসা, ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং জোরপূর্বক নিখোঁজ করার ঘটনার অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা যৌথ অ্যাকশন আওয়ামি কমিটি (জেএএসি) নির্বাচন চলাকালীন শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি বারবার আবেদন জানালেও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার খবর মিলেছে।
একজন গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, এই হিংসার উৎস স্থানীয় মানুষ নন। তাঁর অভিযোগ, হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গিদের আন্দোলনকারীদের ভিড়ে মিশে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভে হিংসা ছড়িয়ে পরে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া, যাতে আন্দোলনকারীদেরই অশান্তির জন্য দায়ী করা যায়।
ওই আধিকারিকের আরও দাবি, জঙ্গি ও ভাড়াটে দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে হিংসা ছড়িয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। গত তিন দিনে প্রায় ৩৭ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সেনা পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন দমন করা যায়। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণের পরিবর্তে আন্দোলন ভাঙতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
আরও এক আধিকারিকের দাবি, সম্প্রতি পিওকের এক সেক্টর কমান্ডারকে সেনার শীর্ষ কর্তাদের তরফে আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী ও জঙ্গিকে বিক্ষোভস্থলে পাঠিয়ে হিংসা ছড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পরে নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনার ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়।
অভিযোগ, আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী এই দুষ্কৃতীরা সরকারি গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগায়, পাথর ছোড়ে এবং সাধারণ মানুষের উপর গুলিও চালায়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আন্দোলনকারীদেরই হিংসার জন্য দায়ী করা হয়।
জেএএসি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা আরও হতে পারে। সংগঠনের দাবি, তাদের সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
প্রশাসনিক সূত্রের আশঙ্কা, আগামী কয়েক সপ্তাহে পিওকের পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষেই কার্যকরভাবে প্রশাসন চালানো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ, নির্বাচনে এগিয়ে থাকা পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন সরকার গঠন করলেও জনসমর্থনের ঘাটতি থেকে যাবে, কারণ জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বিশ্বাস, পাকিস্তান সেনার সহযোগিতায় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে।
এদিকে, এই পরিস্থিতিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় জোটের শরিক পিএমএল-এন এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মধ্যেও মতপার্থক্য বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পিওকের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের শুল্ক কমানো, খাদ্যে ভর্তুকি, শাসক শ্রেণির বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার এবং উন্নত জীবনযাত্রার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় পিওকে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৫৩ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ২৭টি আসনে জয় প্রয়োজন। এর মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় এবং বাকি আটটি সংরক্ষিত আসন। আইএএনএসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে ১৩টি আসনের মধ্যে পিএমএল-এন ৯টি এবং পিপিপি বাকি আসনগুলি জিতেছে। ইমরান খানের দল পিটিআই এই নির্বাচন বয়কট করেছে।


















