বেঙ্গালুরু, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): কর্নাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (কেপিএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। কেপিএসসি দফতর ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পুলিশ একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করে।
অভিযোগ, ৪০০ জন ভেটেরিনারি অফিসার নিয়োগে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রতি পদে ৮০ লক্ষ টাকা ঘুষ, ওএমআর শিটে কারচুপি এবং কেপিএসসি-র চেয়ারম্যানের সাসপেনশনকে ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এছাড়া পঞ্চায়েত উন্নয়ন আধিকারিক (পিডিও) নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এবিভিপির বেঙ্গালুরু সংগঠন সম্পাদক মণিকান্ত কালাসার নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বারবার অনিয়মের কারণে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ তীব্র আকার নিলে কেপিএসসি দফতরের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারীদের আটকাতে দফতরের দিকে যাওয়া বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়।
ব্যারিকেড ভেঙে দফতরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক এবিভিপি কর্মীকে আটক করে।
নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় কর্নাটকে ইতিমধ্যেই ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এবিভিপির দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সম্ভাব্য আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় কেপিএসসি দফতর এবং তার আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিধান সৌধ সংলগ্ন কেপিএসসি কার্যালয় থেকে সিআইডি দফতরের রাস্তা পর্যন্ত ব্যাপক ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শুধুমাত্র কেপিএসসি কর্মী এবং জরুরি কাজে আসা ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভেটেরিনারি অফিসার পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা মেধার ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছেন এবং যে কোনও তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কয়েকজন নির্বাচিত প্রার্থী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তে যদি কোনও নির্বাচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক কর্মরত অনেকেই স্থায়ী নিয়োগ হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন।



















