আগরতলা, ২৮ জুলাই: ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক জগতে যুক্ত হলো এক নতুন পালক। আগরতলার বিশিষ্ট ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ড. জয়ন্ত সরকার তাঁর উদ্ভাবিত নতুন ভারতীয় তারবাদ্য ‘ত্রিপুরেশ্বরী বীণা’-র জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় পেটেন্ট লাভ করেছেন। এই অর্জনকে রাজ্যের সঙ্গীত, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মা ত্রিপুরেশ্বরী (ত্রিপুরা সুন্দরী)-র ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত ‘ত্রিপুরেশ্বরী বীণা’ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ত্রিপুরার লোকঐতিহ্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সমন্বয়। এই বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে।
ড. জয়ন্ত সরকার জানান, ঐতিহ্যবাহী বীণার মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে ত্রিপুরার লোকসংস্কৃতি ও কারুশিল্পের নানা উপাদান এতে সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি কম্পন, অনুরণন, ধ্বনিবিজ্ঞান, হারমনিকস এবং তরঙ্গগতির মতো বৈজ্ঞানিক নীতির প্রয়োগে এই বাদ্যযন্ত্র ভারতীয় রাগসঙ্গীত পরিবেশনে এক স্বতন্ত্র সুরধ্বনি সৃষ্টি করতে সক্ষম। ‘ত্রিপুরেশ্বরী বীণা’-র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সিমপ্যাথেটিক স্ট্রিংস, যা মূল সুরের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুরণিত হয়ে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বনি সৃষ্টি করে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক থেকেও এই বাদ্যযন্ত্রে রয়েছে অ্যাডজাস্টেবল ব্রিজ, ফাইন-টিউনিং পেগ, হালকা ওজনের কাঠ-কম্পোজিট নির্মাণ, মঞ্চ পরিবেশনার জন্য পাইজো-ইলেকট্রিক পিকআপ এবং ডিজিটাল টিউনিং সমর্থনের সুবিধা। প্রযুক্তির সংযোজন সত্ত্বেও এর ঐতিহ্যবাহী নান্দনিকতা ও শাস্ত্রীয় সুরের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
ড. জয়ন্ত সরকারের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার এক উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।



















