গ্যাংটক, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): সিকিম সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের ১৮,৪৫৫ কোটি টাকার বাজেটকে উন্নয়নমুখী বলে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। তবে একই সঙ্গে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
সোমবার আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপির সিকিম শাখার মুখপাত্র পাসাং শেরপা বলেন, বাজেটে কৃষক, সড়ক পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের জন্য একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের উপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজ্যের নিজস্ব আয়ের উৎস বাড়ানো জরুরি।
তিনি ৫,৮৯৬ কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় এবং ১১,৭৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব ব্যয়ের বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ সিকিমের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
আবহাওয়া-সহনশীল ম্যাস্টিক অ্যাসফাল্ট প্রযুক্তিতে রাস্তা নির্মাণের জন্য ৫৪৬ কোটি টাকা এবং রাস্তা মেরামতের জন্য ৩৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রশংসা করে শেরপা বলেন, পর্যটন কেন্দ্রের আগে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে রাস্তার উন্নয়ন শুরু করা উচিত, যাতে গ্রামীণ সংযোগ ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
কৃষকদের জন্য চালু হওয়া স্টেট ইন্টারেস্ট সাবভেনশন স্কিম-কেও তিনি স্বাগত জানান। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা সময়মতো কিষান ক্রেডিট কার্ডের ফসল ঋণ শোধ করলে মাত্র ১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। তিনি জানান, বাকি ৩ শতাংশ সুদের বোঝা বহন করবে কেন্দ্র এবং আরও ৩ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার, ফলে কৃষকদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে।
এসটিএনএম হাসপাতালে অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি (এআরটি) সেন্টার গড়ে তোলার প্রস্তাবকেও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন শেরপা। তাঁর মতে, সিকিমে জন্মহারের নিম্নগতি নিয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (সিএজি)-র উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এছাড়া সিকিম গরিব আবাস যোজনা-র আওতায় ১৯৭টি বাড়ি নির্মাণের ঘোষণাকেও তিনি স্বাগত জানান।
তবে বাজেটে যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, সিকিম ইনস্পায়ার্স কর্মসূচি ইতিবাচক হলেও তা সফল করতে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দুগ্ধশিল্প ও পর্যটনের বহুমুখীকরণের মতো কর্মসংস্থানমুখী খাতে তুলনামূলক কম বরাদ্দ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই খাতগুলি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজ্যের আর্থিক স্বনির্ভরতার উপর জোর দিয়ে শেরপা বলেন, ধার ও কেন্দ্রীয় অনুদানের উপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির দিকেই সিকিমকে এগোতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৬১ ও ২০১৩ সালের কোম্পানি আইন সংক্রান্ত বিধান কার্যকর করার পাশাপাশি স্টেট ব্যাংক অব সিকিম-কে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকল্পগুলি সময়মতো সম্পন্ন করা এবং ব্যবহার শংসাপত্র (ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট) দ্রুত জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং গত ২৩ জুলাই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেন।
























