নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুলাই: মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরে অ্যাপভিত্তিক (উবার) গাড়ির চালককে হেনস্তা, গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেওয়া এবং যাত্রী পরিবহণে বাধা দেওয়া সহ যাত্রী হেনস্থার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল ত্রিপুরা পরিবহন দপ্তর। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই অটোচালককে শোকজ নোটিশ জারি করার পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ চেন্নাই থেকে চিকিৎসা করিয়ে পরিবার-সহ আগরতলায় ফেরেন বিনীতা ঘোষ। বিমানবন্দর থেকে সিদ্ধি আশ্রমে যাওয়ার জন্য তিনি একটি অন লাইনের মধ্যে উবার গাড়ি বুক করেন। অভিযোগ, বিমানবন্দরের বাইরে পৌঁছাতেই কয়েকজন অটোচালক উবার গাড়িটিকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে একজন চালক জোর করে গাড়ির চাবি কেড়ে নেন এবং চালক ও যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি বুক করা গাড়িটিকে যাত্রী নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগ, ওই স্থানীয় অটো চালকরা প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা উপেক্ষা করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরে অ্যাপভিত্তিক গাড়ির চালকদের উপর চাপ সৃষ্টি ও যাত্রীদের হয়রানির ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন। ভিডিওতে তাদের এধরনের অশালীন ব্যবহার লিপিবদ্ধ হয়েছে অভিযোগকারিণীর কাছে। ইতিমধ্যেই তিনি এর সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবহন দপ্তর পশ্চিম ত্রিপুরার পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত যানবাহনের নিবন্ধন, পারমিট ও চালকের লাইসেন্সের বিরুদ্ধে মোটরযান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনা করে টিআর -০১-কে- ২৩৬৫ এবং টিআর -০১ – এফ- ২৯৮৮ নম্বরের দুই অটোরিকশার চালকের নামে পৃথক শোকজ নোটিশ জারি করেছে পরিবহন দপ্তর। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর এমবিবি বিমানবন্দরে যাত্রী নিরাপত্তা, অ্যাপভিত্তিক পরিবহণ পরিষেবার নির্বিঘ্ন পরিচালনা এবং অবৈধ দাদাগিরি রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
———-



















