কৈলাসহর, ২৪ জুলাই: কৈলাসহর শহরের হকার্স কর্নার এলাকায় গভীর রাতে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য হিমাংশু দাসের দোকানে ব্যাপক চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা যায় ওই এলাকায় দর্জির দোকান রয়েছে তাঁর। দুর্বৃত্তরা দোকানের গ্রিল ও দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সেলাই মেশিন, চেয়ার, কাপড়সহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি দোকানের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরও করা হয়। ঘটনায় শহরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে তদন্তে নেমেছে কৈলাসহর থানার পুলিশ।
জানা গেছে, কৈলাসহরের হালাইরপাড় গ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু দাস দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে হকার্স কর্নার এলাকায় দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এলাকায় একজন দক্ষ দর্জি হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি ফিরে যান। শুক্রবার ভোরে স্থানীয়রা দোকানে চুরির বিষয়টি দেখতে পেয়ে গ্রামের প্রধানকে খবর দেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হিমাংশু দাস দোকানে এসে দেখেন, বাইরের লোহার গ্রিল ও মূল দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
অভিযোগ, দোকান থেকে তিনটি সেলাই মেশিন, প্রায় দশটি চেয়ার, দুই বান্ডিল কাপড়সহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া সিলিং ফ্যান ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে দোকান থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরের একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে একটি সেলাই মেশিনের নিচের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের দোকানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত হিমাংশু দাস দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ১৯৯৩ সালে বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে বিজেপির ঊনকোটি জেলা কমিটির সক্রিয় সদস্য।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপির ঊনকোটি জেলা সভাপতি বিমল কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরাও সেখানে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তের সঙ্গে কথা বলেন।
হিমাংশু দাস বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, অতীতেও বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে ব্যবসা করেছেন, কিন্তু কখনও এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। এই ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এটি শুধুমাত্র চুরির ঘটনা নয়; যেভাবে দোকানের ভিতরের সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে, তাতে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তবে পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
























