নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ জুলাই: রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধ্যানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস।
বিকেল প্রায় ৪টায় প্রদেশ কংগ্রেসের ডাকে আগরতলার কংগ্রেস ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের সূচনা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে পৌঁছে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা ডিজিপির মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, সদর জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়, যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা, সদর জেলা মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী রূপা রায় দাস, ছাত্রনেতা আমির হোসেনসহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, ডিজিপির মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই সংশয় দূর করতে অবিলম্বে ত্রিপুরা হাইকোর্টের কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, একজন দক্ষ ও সৎ পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।
সুদীপ রায় বর্মন আরও বলেন, কংগ্রেস এই ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত করছে না বা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে না। তাঁদের একমাত্র দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হোক, যাতে প্রকৃত সত্য রাজ্যবাসীর সামনে আসে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহাও একই দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।
এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মিছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কিছু সময় বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।


















