চেন্নাই, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা (আইএমবিএল) অতিক্রম করে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ৯ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে আটক করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। একইসঙ্গে তাঁদের একটি মাছ ধরার ট্রলারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে দীর্ঘদিনের মৎস্যজীবী-সংক্রান্ত বিরোধ ফের সামনে এল।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে, সামুদ্রিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগ অভিযানের সময় তাদের সদস্যরা শ্রীলঙ্কার জলসীমায় ভারতীয় মাছ ধরার নৌকার একটি বড় দলকে দেখতে পান। অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই তালাইমান্নারের উত্তরে শ্রীলঙ্কার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন ওই মৎস্যজীবীরা।
নৌবাহিনীর দাবি, ইরানাতিভুর দক্ষিণে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় ৫০টিরও বেশি ভারতীয় ট্রলার মাছ ধরছিল। এরপর অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলার আটক করা হয় এবং তাতে থাকা ৯ জন মৎস্যজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাজেয়াপ্ত ট্রলারটিও কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পরে আটক মৎস্যজীবী ও ট্রলারটিকে শ্রীলঙ্কার মন্নারের মৎস্য পরিদর্শকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার মৎস্য আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আটক মৎস্যজীবীদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে মৎস্যজীবী ইস্যু। তামিলনাড়ুর মৎস্যজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে পাল্ক প্রণালীর ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার এলাকায় প্রবেশের দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা তাদের জলসীমায় অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তঃসীমান্ত মাছ ধরা রুখতে শ্রীলঙ্কা সমুদ্রে টহল আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে যান্ত্রিক বটম ট্রলারের ব্যবহার সামুদ্রিক সম্পদ ও সমুদ্রতলের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে কলম্বোর দাবি। তবে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, মাছের মজুত কমে যাওয়া এবং সামুদ্রিক সীমারেখার নৈকট্যের কারণে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেন।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ১২৮ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে আটক করা হয়েছে এবং ১৮টি ভারতীয় ট্রলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার উত্তর উপকূলকে পৃথক করা পাল্ক প্রণালী এ অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ মৎস্যভাণ্ডার। এই জলপথকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মৎস্যজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে এবং সামুদ্রিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগে প্রায়ই উভয় দেশের মৎস্যজীবীরা আটক হন। সমস্যা সমাধানে নয়াদিল্লি ও কলম্বোর মধ্যে সময়ে সময়ে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও গ্রেপ্তার ও ট্রলার বাজেয়াপ্তের ঘটনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।


















