ম্যানিলা, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্য যাতে নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকের পর এক্স-এ (সাবেক টুইটার) করা পোস্টে জয়শঙ্কর জানান, ম্যানিলা প্ল্যান অব অ্যাকশনকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার পাঁচটি মূল স্তম্ভ ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা, সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা বিনিময়, অভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি এবং বাস্তব ও টেবিল-টপ মহড়া পরিচালনার পক্ষে ভারত।
তিনি আরও বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্য নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে চলা উচিত।”
জয়শঙ্কর জানান, দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ভারত ‘কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর পক্ষে সওয়াল করছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ফিল্ড হাসপাতাল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, ত্রাণসামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও জামাইকায় ঘূর্ণিঝড় এবং মায়ানমার, ভেনেজুয়েলা ও আফগানিস্তানের ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্বাসনেও ভারত সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির ওপর জোর দিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের পরিণতি অবশ্যই হতে হবে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের উৎস বন্ধ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ দমনে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক-প্লাস (এডিএমএম+) বিশেষজ্ঞ কর্মগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ভারত এবং সেরা অনুশীলনের একটি সংকলনও তৈরি করছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার, ইন্দো-প্যাসিফিক মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস উদ্যোগ এবং উত্তর আরব সাগর থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর মোতায়েন জলদস্যুতা, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান রোধ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গভীরতর আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষিণ চীন সাগর প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনবিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস)-এর সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, কার্যকর ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) প্রণয়নের পক্ষে ভারত এবং এই অঞ্চলের সব ব্যবহারকারীর বৈধ অধিকার যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইন ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের উপর চিন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই এবং তাইওয়ান আংশিক বা সম্পূর্ণ দাবি জানিয়ে আসছে, যার জেরে অঞ্চলটি ইন্দো-প্যাসিফিকের অন্যতম কৌশলগত উত্তেজনাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


















