নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): নীট প্রশ্নফাঁস এবং দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বুধবার লোকসভায় তুমুল হইচইয়ের সৃষ্টি হয়। বিরোধীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। যদিও কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, নীট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনায় তারা প্রস্তুত।
কংগ্রেস সাংসদ কে.সি. ভেনুগোপাল বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই বিরোধীদের মূল দাবি। একইসঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণেরও আবেদন জানান।
ভেনুগোপাল বলেন, “আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। সরকার যদি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হোক।”
এর জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, নীট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। তবে কোন নিয়মে, কত সময় ধরে আলোচনা হবে, তা স্পিকার সর্বদলীয় ফ্লোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ঠিক করবেন।
রিজিজু বলেন, “সরকার নীট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হওয়া উচিত। তবে আলোচনার নিয়ম ও সময় স্পিকারই নির্ধারণ করবেন।”
আলোচনার সময় সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও বক্তব্য রাখতে চান। তিনি বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং দেশের ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাই সব দলের বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকা উচিত।
অখিলেশ বলেন, “এটি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি বা বিজেপির বিষয় নয়। এটি দেশের যুবসমাজের বিষয়। ছাত্রদের কথা না শুনলে আমরা রাস্তায় নামব। আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেকের হাত-পা ভেঙেছে, পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ছাত্রীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিরোধীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ বলেন, সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়াতেই তাঁদের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ করতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সংসদের বাইরে বক্তব্য রাখতে পারেন, তবে সংসদে কেন এ বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন না?
এদিকে, স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধীদের শান্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ইতিমধ্যেই আলোচনায় সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ায় লোকসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় স্পিকার অধিবেশন দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।



















